অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের মত পুরোনো পোশাকের পক্ষে



অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের মত পুরোনো পোশাকের পক্ষে 

আগের গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট)  পোশাকে ফিরতে চায় পুলিশ। ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন পুলিশ সদস্য আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর বর্তমানের লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) প্যান্ট পরতে চান ৯১১ জন সদস্য।

আজ বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১২ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড হয়। এতে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ সদর দপ্তর ও রেঞ্জ পুলিশ সদস্য মিলে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের কাছে লিখিত ফর্মে পোশাক নিয়ে হ্যাঁ/না মতামত চাওয়া হয়। সেসব ফর্মের মতামত যোগ করে দেখা যায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ পুলিশ সদস্য আগের পোশাক  নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ (গ্রিন) শার্ট ও গাঢ় প্যান্টের পক্ষে। ২ হাজার ৮১৭ জন পুলিশ সদস্য অন্য রঙের পোশাক চান; যা শতকরা হিসাবে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নতুন সরকার আসার পর পুলিশের আগের পোশাক নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়।

আজ ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতবিনিময় সভা ছিল। সভা শেষে সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তার আগে মন্ত্রী ওই সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করলে মানসিক পরিবর্তন হবে কি না।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে পুলিশের পোশাকের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেছিল, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের আগের পোশাকটি নির্ধারণ করেছিল। সে সময় আবহাওয়া, দিনে ও রাতে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে দৃশ্যমানতা, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না থাকে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মতামত উঠে এসেছে। বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশনের নজরে এসেছে এবং বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন।

বিবৃতিতে সরকারকে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারসহ তাদের পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশে আয়রন রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র, গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের পোশাক নির্ধারণে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেবে পুলিশ।

অনলাইনে রিটার্ন জমা ৪০ লাখ ছাড়াল, ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় ৩৪ হাজার করদাতার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন

অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমাকারী করদাতার সংখ্যা ৪০ লাখ পেরিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন নিয়েছেন। আজ এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর আরও বলছে, ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় দেখিয়েছেন, এমন পুরুষ করদাতার সংখ্যা ২৯ হাজার ৮০ ও নারী করদাতার সংখ্যা ৫ হাজার ১১৭। সব মিলিয়ে ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন ৩৪ হাজার ১৯৭ জন করদাতা।

এ ছাড়া ৫ লাখ টাকার বেশি, কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন, এমন পুরুষ করদাতার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৪ ও নারী করদাতার সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭। ১০ লাখ টাকার বেশি, কিন্তু ২০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন, এমন পুরুষ করদাতার সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৩ ও নারী করদাতার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫৩২। ২০ লাখ টাকার বেশি, কিন্তু ৪০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন, এমন পুরুষ করদাতার সংখ্যা ৫৪ হাজার ২১২ ও নারী করদাতার সংখ্যা ১১ হাজার ৪৫৫।

এ ছাড়া সম্পদের পরিমাণ সারচার্জ আরোপযোগ্য হওয়ায় ৩৯ হাজার ৩৬৩ জন পুরুষ করদাতা ও ১১ হাজার ৬৫ জন নারী করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

এনবিআর আরও বলছে, দাখিল করা ই–রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৩ জন নারী করদাতা। করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখিয়েছেন, এমন পুরুষ করদাতার সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩০ ও নারী করদাতার সংখ্যা ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৭। এর মানে ২২ লাখের বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দিলেও কোনো কর দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন করলে দেশের অনেক খাত বিপদে পড়বে: মাহা মির্জা 
ক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে ও ইরানে হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সমাবেশে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা। ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে জোটের নেতারা বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে এই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং চুক্তিটি বাতিলের পক্ষে জনমত গঠন করা হয়।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে এবং সেটাও নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে তড়িঘড়ি করে। নির্বাচন হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের পোলট্রি খাত, ডেইরি খাত, ফার্মেসি, ওষুধশিল্প, কৃষি খাত, মৎস্য খাত, পাটকল-চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিপদে পড়বে এবং আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের শিকার হবে।’

মাহা মির্জা আরও বলেন, ‘এখন যেহেতু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে, তাই বিএনপি সরকারকেই প্রমাণ দিতে হবে যে তারা এই বাণিজ্যচুক্তির পক্ষে নাকি বিপক্ষে। আগামী ১২ তারিখে সংসদ বসবে। আমরা আশা করছি, অবিলম্বে তাঁরা এই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি সংসদে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তি বাতিলের জন্য জনমত গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন।’

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘ইরানে যখন আমেরিকা হামলা চালাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সরকারকে আমরা মিনমিন করে ইরানের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে দেখেছি। এ দেশের মানুষের পক্ষে সরকার কোনো অবস্থান নিতে পারেনি। উল্টো একটি শিক্ষিত গোষ্ঠী এর সাফাই গাইতে দাঁড়িয়ে গেছে। তারা বলতে চায়—বাংলাদেশের সক্ষমতা নেই, এটা নেই, ওটা নেই। এমন কথাবার্তা বলে তারা সাম্রাজ্যবাদী ও পা–চাটা বিবৃতিকে সমর্থন জোগায়।’

জাবির আহমেদ আরও বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন আসে, তখনই আমরা এই গোষ্ঠীকে ওই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পক্ষে থাকতে দেখি। আমরা দেখলাম, আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করা হয়েছে, সেটার ক্ষেত্রেও তারা কোনো বিরোধিতা করছে না। অর্থাৎ বাংলাদেশকে দীর্ঘ মেয়াদে পঙ্গু বানিয়ে রেখে এবং জাতীয় সক্ষমতা তৈরি না করে তারা মূলত আমেরিকার স্বার্থই হাসিল করছে।’

বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সংগঠক নাঈমুদ্দীন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে নতুন একটি দল ক্ষমতায় এল। অনেকেই বলেন, বামপন্থীদের ক্ষমতা নেই, তারা অল্প কিছু মানুষ।’

এ সময় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো এত বড় দল। আমেরিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় জমায়েতটি আপনাদের কাছ থেকে আমরা দেখতে পেতাম। তাহলে বোঝা যেত আপনারা মার্কিনবিরোধী ও জনগণের পক্ষের শক্তি। কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না।’

নাঈমুদ্দীন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে। কিন্তু তারাই গোপনে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে।’

উল্লেখ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি সই হয়। এতে দেশীয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post