জ্বালানিসংকটে মিশ্র ক্লাস: প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে দুর্গম হাচৌকপাড়া এলাকার শিশু ওরা। স্কুল অনেক দূরে—দশ থেকে বারো কিলোমিটার তো হবেই। দুর্গম পথে ভরসা কেবল দুখানি পা। হৃদয় মেম্বারপাড়া, মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটকে সাময়িকভাবে মোকাবিলা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত এসেছে—বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ও অফলাইনে সপ্তাহে তিন দিন করে দুইভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চলবে, যত দিন না বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের নিরসন হয়। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি উন্নয়নশীল, অনুন্নত এমনকি উন্নত সব দেশেই দ্রুত বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জ্বালানিসংকটের তীব্রতা সারা বিশ্বে বিশেষত এশিয়ার দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে জ্বালানিসংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
জ্বালানিসংকটের সময়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বা খরচ বাঁচানোর জন্য সরকার ভাবছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্লেন্ডেড অর্থাৎ মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার। আমরা সবাই জানি, কোভিড মহামারিতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। দেশের এসব চরম পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে মনোনিবেশ করতে পারেনি। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অসীম সাহস আর ত্যাগকে আমরা কোনোভাবে অস্বীকার করতে পারি না। তাই সেসব ত্যাগের কথা চিন্তা করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক পরীক্ষায় সিলেবাস কমিয়ে দেওয়াসহ শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ ছাড় করেছিল।
২০২৬ সালের প্রথমদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও মাসব্যাপী রমজানের কারণেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ওপর যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিল। সেসব ঘাটতি পূরণের জন্য বন্ধের দিনে শনিবার (প্রথম পর্যায়ে ১০ সপ্তাহ) ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক যে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে, তা থেকে সাময়িক পরিত্রাণের জন্য এবং দিনের আলোর পরিপূর্ণ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সপ্তাহে তিন দিন করে মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদানের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। অপর দিকে বলা হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা থাকবে।
এ মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদান করার প্রস্তাব আনার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেয় বলে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায়। আর এ ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে পাঠদানের যৌক্তিকতা হিসেবে বলা হচ্ছে, কোভিডকালে যে পদ্ধতিতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয়েছে, সেই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তাই এ পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম চালালে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং বর্তমান জ্বালানিসংকটকালীন পরিস্থিতিকেও মোকাবিলা করা অধিকতর সহজ হবে।
কিন্তু আমাদের আশঙ্কার জায়গাটি অন্য জায়গায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে মিশ্র পদ্ধতির কথা ভাবছে, সেটা কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল, দেশের উপকূলীয় এবং হাওরের স্কুলের শিক্ষার্থীরা, যাদের অভিভাবকদের হাতে স্মার্টফোন দূরে থাক, সাধারণ বাটন ফোনও নেই! পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে তা হলো—বিদ্যুৎ–সুবিধাই যেখানে পৌঁছেনি, সেখানে স্মার্টফোন, অনলাইন ক্লাস এসব ইস্যু জুমিয়া অভিভাবকদের কাছে বিলাসিতার অংশ ছাড়া আর কিছু হবে না। তদুপরি আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভাষাগত সমস্য তো আছেই। তা ছাড়া সরকারের এ প্রস্তাবে আরও যেটি নির্দেশনায় আছে তা হলো—শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাস করলেও শিক্ষকদের সপ্তাহে ছয় দিনই স্কুলে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, পাহাড় কিংবা হাওরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যুৎ–সুবিধার আওতায় আসেনি। ফলে সেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রশ্নটি প্রচণ্ডভাবে অবাস্তব ও অবান্তর। আর তা ছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে মাসিক বিদ্যুৎ বিল হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। অন্যদিকে আমরা যদি সরকারি বড় বড় অফিস–আদালতগুলোর দিকে তাকাই তাহলে অধিকাংশ আধুনিক ভবন কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। যেমন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কথাই ধরা যাক। একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান যার কোনো দৃশ্যমান কাজ আজ অবধি নেই, সেই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, যার মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমপক্ষে তিন থেকে চার লাখ টাকা।
তাই আমরা মনে করি, এসব বড় বড় কর্মহীন অফিসগুলোকে কৃচ্ছ্রসাধনের আওতায় এনে দূরবর্তী প্রান্তিক অঞ্চলের স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের কার্যক্রম বর্তমান চলমান পদ্ধতিতে রাখা হোক। আর মিশ্র পদ্ধতির আওতায় শুধু বিভাগীয় এবং জেলা-উপজেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আনা হোক। একই সঙ্গে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় অফলাইন না করে অনলাইন পদ্ধতির আওতায় আনা হোক।
আমরা এটা তো মানি যে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নিদেনপক্ষে একটি স্মার্টফোন থাকে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণ অনলাইনের আওতায় আনলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বহুলাংশে কমবে। শিশুদের ওপর মানসিক চাপ না বাড়িয়ে বরং তাদেরকে মুক্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশে রেখে শিক্ষাদান অব্যাহত রাখা অনেক বেশি শ্রেয় হবে। ঢাকা শহরে প্রতিটি বাচ্চার পেছনে দৈনিক যে জ্বালানি খরচ হয় সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয়ের অজুহাতে আমাদের দেশের গ্রামের প্রান্তিক শিশুদের লেখাপড়ার স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবে যৌক্তিক হবে না।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে যথেষ্ট সচেতন ও কঠোর সে কথা আমাদের সবার জানা আছে। দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অতীতে নকল বন্ধে তাঁর কঠোর ভূমিকা সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তাই আমরা বিশ্বাস রাখি, তিনি বর্তমান এ বৈশ্বিক সংকটকে কাটিয়ে উঠতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন।
আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষায় বসতে পারে সেটা নিয়েও আমাদের আগাম প্রস্তুতি রাখা জরুরি। বিগত দুই বছর এবং তারও আগে কোভিডকালে আমাদের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের ওপর নানা রকম চ্যালেঞ্জ ও ধকল গেছে। তাই তাদেরকে আর চ্যালেঞ্জের মুখে না ফেলে বিকল্প সমাধানের পথ খুঁজে নিতে আমাদের এখনই সচেষ্ট হতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এ বছর বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষ বাড়বে ১২ লাখ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখছেন বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এ বছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ গরিব মানুষ বাড়তে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় কমতে পারে। তারা দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠতে পারবে না, এমন কথা বলছে বিশ্বব্যাংক।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠতে পারবেন না, এর একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এখন কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি দিনে তিন ডলারের কম আয় করলে দরিদ্র হিসেবে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে গরিব মানুষ বাড়তে পারে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে দারিদ্র্য বাড়ছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০২৫ সালে নতুন করে ১৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠবেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠতে পারেন। এর মানে, এ বছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ গরিব থেকে যাবেন। বিশ্বব্যাংক বলছে, যুদ্ধাবস্তা না থাকলে ২০২৮ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে।
প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার কয়েকটি কারণ বলা হয়েছে। এগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের কম মজুরি, কর্মসংস্থানের গতি যাওয়া। এ ছাড়া বৈষম্য বাড়বে, এমন পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে এ বছর দারিদ্র্যের হার কমবে মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে দারিদ্র্য কমে।
বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) জ্যঁ পেম বলেন, বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে। তাঁর মতে, শোভন কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা দরকার।
জ্যঁ পেম বলেন, বিগত দিনে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই সংস্কার যেন অব্যাহত থাকে। যদিও সংস্কার খুব কঠিন হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ৬ খাতে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি খাতে পড়তে পারে। ১. চলতি হিসাবের ভারসাম্যের স্থিতিশীলতা নস্ট হতে পারে। কারণ, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, টাকার অবমূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে। ২. ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে টান পড়তে পারে। ৩. জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। ৪. ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। ৫. আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। যেমন সার ও জ্বালানিতে ভর্তুকি খরচ বৃদ্ধি। ৬. বৈষম্য বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে গিনি সূচক দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠবেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠতে পারেন। এর মানে, এ বছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ গরিব থেকে যাবেন।
জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এর আগে জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এখন ইরান যুদ্ধের কারণে সেই পূর্বাভাস আরও কমানো হলো।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার ঠিক করেছে সাড়ে ৫ শতাংশ। নতুন সরকার অবশ্য এখনো জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংক বলছে, আগের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চারটি চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন রাজস্ব আয়, আর্থিক খাতের ঝুঁকি ও বহিঃখাতের চাপ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এসব চ্যালেঞ্জ আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। জরুরি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সুযোগ কম। কারণ, দুর্বল রাজস্ব খাতে আদায় বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা আছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতিতে সীমিত সুযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকিং খাত এবং অপর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত।
মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এখনো এ দেশে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের মতো, যা সীমিত আয়ের মানুষকে ভোগাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সীমিত, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি কঠোর এবং ব্যাংক খাত ভঙ্গুর থাকায় দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা বাংলাদেশের কম। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং কাঠামোগত সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি হলে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি। সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব বাড়ানো, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জরুরি সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এখন ইরান যুদ্ধের কারণে সেই পূর্বাভাস আরও কমানো হলো।
আজ টিভিতে যা দেখবেন (০৯ এপ্রিল ২০২৬)
পিএসএলে আজ দুটি ম্যাচ। আছে আইপিএল। রাতে আছে ইউরোপা ও কনফারেন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল।
পিএসএল
ইসলামাবাদ-লাহোর
বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস
করাচি-পেশোয়ার
রাত ৮টা, টি স্পোর্টস
আইপিএল
কলকাতা-লক্ষ্ণৌ
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২
ইউরোপা লিগ
বোলোনিয়া-অ্যাস্টন ভিলা
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ১
পোর্তো-নটিংহাম
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২
ফ্রাইবুর্গ-সেল্তা ভিগো
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৫
কনফারেন্স লিগ
শাখতার-আলকমার
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৩
দুই দশক পর ফিরছে ‘ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’২০০৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’। মার্কিন লেখক লরেন ওয়াইসবার্গারের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে কমেডি ধাঁচের এই সিনেমা পরিচালনা করেছিলেন ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেন মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যান হ্যাথাওয়ে। দুই দশক পর সিনেমাটির সিক্যুয়েল নিয়ে ফিরছেন তাঁরা। ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’।
গত সোমবার সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন স্ট্রিপ। ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম ছবিটি এত বড় পরিসরে সাড়া ফেলবে, তা তিনি ভাবেননি।
‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ সিনেমাতেও মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্রে দেখা যাবে স্ট্রিপকে। দ্রুত বদলে যাওয়া মিডিয়াজগতে টিকে থাকার লড়াইয়ে এবারও রানওয়ে ম্যাগাজিনের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি।
অ্যান্ডির চরিত্রে ফিরছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। এবার তিনি আর নবীন নন; হয়েছেন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক। কাহিনির একপর্যায়ে আবারও প্রিস্টলির সঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে তাঁকে।
হ্যাথাওয়ের মতে, দুই ছবির মাঝে ২০ বছরের ব্যবধান খুব বেশি নয়। ‘প্রথম ছবিতে অ্যান্ডির বয়স ছিল ২২, অভিজ্ঞতা কম ছিল। এখন সে জীবন দেখেছে, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, ” বলেন তিনি।
প্রথম ছবিটি নিজের ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী। ‘এটি আমার জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। দর্শক আমাকে কীভাবে গ্রহণ করে, তা বুঝতে সাহায্য করেছে। ফলে পরে আমি আরও ঝুঁকি নিতে পেরেছি,’ বলেন তিনি।
ছবির বার্তা নিয়ে খুব বেশি ব্যাখ্যায় যেতে চান না স্ট্রিপ। তাঁর কথায়, ‘কোনো নির্দিষ্ট বার্তা চাপিয়ে দিতে চাই না। দর্শক মজা খুঁজবে, পাশাপাশি বর্তমান সময়ের গুরুতর বিষয়গুলোর আভাস পাবে—যা খুশি, সেখান থেকেই নেবে।’
কোরিয়া সফর নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দুই তারকা।
কোরিয়া টাইমস অবলম্বনে
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে চাকরি, বেতন ৪০,০০০ টাকাবাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) লোগো
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে (বিএইচবিএফসি) চিকিৎসক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর এবং ঢাকার জোনাল ও শাখা অফিসসমূহে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারবর্গকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।
চাকরির বিবরণ
পদের নাম: চিকিৎসক
পদ সংখ্যা: ২ (পুরুষ ১ জন ও নারী ১ জন)
বয়স: ২৫–৬০ বছর।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ থেকে ন্যূনতম এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রি। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন সনদ। চিকিৎসাকাজে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।


Post a Comment