সরকার অতি অল্প সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে: ত্রাণমন্ত্রী

 

সরকার অতি অল্প সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে: ত্রাণমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব। আজ সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়াম মাঠেছবি: প্রথম আলো

অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব। তিনি বলেন, ‘চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়ন করবে, কারিগরি সহায়তা দেবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই চীন সফর করবেন। আমি অত্যন্ত আশাবাদী, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার অতি অল্প সময়ে এই কাজ শুরু করবে, ইনশা আল্লাহ।’ আজ সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়াম মাঠে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চাকরি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, ‘আমাদের (বিএনপির) নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, সরকার গঠন করা হলে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তা যাঁরা রয়েছেন এবং সরকারি ক্ষেত্রে আমরা নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশে তো বেকারত্ব একটা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে, ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে অনেক ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ধীরে ধীরে আগামী পাঁচ বছরে সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। এর পাশাপাশি যাঁরা হতদরিদ্র, যাঁরা গরিব–অসহায়, তাঁদের জন্য কিছু পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকের ঋণ মওকুফ করা, যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, সেখানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষেরা কাজ করতেছে। জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই ম্যান্ডেটের আলোকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যুগান্তকারী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ক্রীড়াটাকে তিনি পেশা হিসেবে দেখতে চান। সে জন্য শৈশব থেকে ক্রীড়াবিদ বাছাই করতে চান। ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে আট একর মাপের একটি খেলার মাঠ থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে সরাসরি ঢাকায় বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল এখনো কেন শুরু হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব বলেন, ‘আমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাঁরা আমাকে বলেছেন, তাঁদের রেলওয়ে ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও বগির স্বল্পতা রয়েছে, সে কারণে এই সময়ের মধ্যে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যে কিছু বগি ও ইঞ্জিন এলে তখন এটা বিবেচনা করা হবে।’

প্রসঙ্গত আসাদুল হাবিব মন্ত্রী হওয়ার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাতে ঘোষণা করেন, ছয় মাসের মধ্যে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন সরাসরি বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে ঢাকায় চলাচল করবে।

রিয়াল মাদ্রিদকে ধ্বংস করতে চায় একটি চক্র: ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে

সংবাদমাধ্যমে তাঁকে সাধারণত দেখা যায় না। গতকাল হঠাৎই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়ার পর তাই অনেকে ভেবেছিলেন, পদত্যাগ করবেন নাকি! যেহেতু ট্রফিহীন দুটি মৌসুম পার করল রিয়াল মাদ্রিদ, ড্রেসিংরুমেও মারামারির ঘটনা ঘটছে এবং তাঁর নিজেরও ক্যানসারে ভোগার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু কিসের কী! গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বলা প্রথম কথাটি ছিল, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি পদত্যাগ করছি না।’

ওহ, ৭৯ বছর বয়সী এই ভদ্রলোকের নামটাই বলা হয়নি। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি। রিয়ালের বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন পেরেজ। সেখানে বেশ কিছু শক্ত প্রশ্নের মুখে পড়েন এবং মেজাজও হারান দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৯ থেকে রিয়াল সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেরেজ।

টানা দুটি বাজে মৌসুমের পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পেরেজের নেতৃত্ব। এবার কোপা দেল রে থেকে আগেভাগে বিদায়, সুপার কোপার ফাইনালে হার, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ও লা লিগা জিততে ব্যর্থ হওয়া—এসবের পাশাপাশি কোচ ছাঁটাই, ড্রেসিংরুমে অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি ও ফেদে ভালভের্দের মারামারির পর অনেকেই পেরেজের প্রতি অভিযোগের আঙুল তোলেন।

কিন্তু পেরেজের দাবি, চলতি মৌসুমে দলের খারাপ ফলের সুযোগ নিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদকে ধ্বংস করতে চায় এমন একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। আমি এই “রিয়ালবিরোধী” তৎপরতা বন্ধ করতে চাই।’

কীভাবে, সেটাও বলেছেন পেরেজ, ‘ক্লাবের সম্পদ সদস্যদের হাতে ফিরিয়ে দিতেই আমি পুনর্নির্বাচনে লড়ব। কেউ যদি নির্বাচন করতে চায়, তবে শুধু লোকদেখানো কথা না বলে মাঠে নামুক। তারা ক্লাবের জন্য কী করবে এবং অর্থায়নের উৎস কী হবে—সেটা পরিষ্কার করে বলুক। বাইরে অনেকে বলেন যে রিয়াল মাদ্রিদ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব।’

রিয়ালে যে সংকট চলছে না, তা নয়। কয়েক দিন আগে এল ক্লাসিকোতেও হেরে বার্সার হাতে শিরোপা তুলে দেয় তারা। তবে ড্রেসিংরুমে মারামারি নিয়ে বিতর্কই ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। পেরেজের মতে, এই ঘটনার চেয়েও খারাপ বিষয় হলো এটা বাইরে আসা। রিয়াল সভাপতির ভাষায়, ‘দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এমন অনেক মৌসুম গেছে যখন খেলোয়াড়েরা প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়িয়েছে। এসব হয়েই থাকে। এটা খারাপ, কিন্তু কিন্তু বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসা তার চেয়েও খারাপ...আগে কখনো তা সংবাদমাধ্যমে আসেনি।’ পেরেজ যোগ করেন, ‘তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টি ভয়াবহ। মারামারির তথ্য কারা সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছে, ক্লাব ভালোভাবেই জানে।’

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে পেরেজ বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন আমার নাকি প্রাণঘাতী ক্যানসার হয়েছে। অথচ আমি এখনো রিয়াল মাদ্রিদ ও আমার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। জানি না কেন এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমার যদি ক্যানসারই হতো, তবে তো আমাকে ক্যানসার সেন্টারে যেতে হতো। আপনারা কি মনে করেন আমি সেখানে গেলে সেটা জানাজানি হতো না? এ খবরের কোনো ভিত্তি নেই। তারা এটি সাজিয়েছে এবং পরে তা ডালপালা মেলেছে।’

গুঞ্জন চলছে, জোসে মরিনিওকে নতুন কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনতে পারে রিয়াল। পেরেজ এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পেরেজ জানান, তিনি এবং তাঁর সমর্থকেরা উয়েফার কাছে পাঠানোর জন্য ৫০০ পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করছেন। এ ঘটনাকে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি হিসেবে উল্লেখ করে পেরেজ বলেন, ‘এটি ফুটবলের সবচেয়ে গুরুতর দুর্নীতির ঘটনা। আমি মাত্র ৭টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ৭টি লিগ শিরোপা জিতেছি; অথচ আমি ১৪টি করে জিততে পারতাম। বাকিগুলো আমার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে।’

স্পেনের রেফারি কমিটির সাবেক সহসভাপতি হোসে মারিয়া নেগ্রেইরাকে বছরের পর বছর ধরে প্রায় ৭০ লাখ ইউরো দেওয়ার অভিযোগে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। তবে বার্সেলোনা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করে আসছে।

পেরেজের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে বার্সেলোনাও। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ডাকা সংবাদ সম্মেলন এবং সেখানে তাঁর করা মন্তব্য ও অভিযোগগুলো আমাদের আইন বিভাগ খতিয়ে দেখছে। আপাতত পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনাধীন রয়েছে।’

৪ মাসের আলোচিত ৭ সিরিজের গল্পে কী আছে
‘দ্য পিট’ সিরিজের পোস্টার
ছবি: আইএমডিবি

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় ২০২৬ চমক, প্রত্যাবর্তন আর নতুন গল্পের প্রতিযোগিতা নিয়ে এসেছে। বছরের প্রথম চার মাসেই দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একাধিক সিরিজের নাম। এই প্রথম চার মাসের সেরা ৫০টি সিরিজ নিয়ে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

এসব সিরিজ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিছু সিরিজে রয়েছে গল্প বলার অভিনবত্ব, কিছু কিছু সিরিজ দর্শক মাতিয়েছে অভিনয় ও নির্মাণশৈলীতে। অপরাধ, রাজনীতি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, পারিবারিক নাটক থেকে শুরু করে ব্যঙ্গাত্মক কমেডি—বিভিন্ন ঘরানার এসব সিরিজই প্রমাণ করেছে, ছোট পর্দার গল্প বলার শক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তার প্রমাণ বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রথম চার মাসের সাত সিরিজ। কী আছে সিরিজগুলোতে?

১. ‘দ্য পিট’ (এইচবিও ম্যাক্স)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য পিট’–এর দ্বিতীয় মৌসুম নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। প্রথম মৌসুমেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত টিভি সিরিজে পরিণত হয়েছিল এটি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের সেরা সিরিজগুলোর সম্ভাব্য তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে এই হাসপাতালভিত্তিক সিরিজ। এটি জানুয়ারির ৮ তারিখে এইচবিও ম্যাক্সে প্রচারিত হয়। এর গল্প একটি ব্যস্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘিরে। প্রতিদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা যেমন কঠিন চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক চাপের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়। বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা, টানটান পরিস্থিতি এবং চরিত্রগুলোর মানবিক সম্পর্কই সিরিজটির মূল আকর্ষণ।

‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার

 ‘ইন্ডাস্ট্রি’ (এইচবিও)
লন্ডনের একটি প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংকে কর্মরত তরুণ ব্যাংকারদের ঘিরে সিরিজের গল্প এগিয়ে চলে। কর্মকর্তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা, অর্থ, ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাদের করপোরেট দুনিয়ায় টিকে থাকার লড়াই দেখানো হয়। সিরিজটি প্রথম প্রচার শুরু হয় ২০২০ সালে। এ বছর জানুয়ারির ১১ তারিখে চতুর্থ কিস্তি প্রচার শুরু হয়। নতুন এই মৌসুমে কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নৈতিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করে, যা দর্শকেরা পছন্দ করেছেন।

৩. ‘হাউ টু গেট টু হ্যাভেন ফ্রম বেলফাস্ট’ (নেটফ্লিক্স)
এটি একটি ডার্ক কমেডি ও রহস্যধর্মী সিরিজ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে এটি প্রচারের পর থেকে আলোচনায় আসে। একই ধারার গল্প থেকে সিরিজটি দর্শকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। কী আছে এই সিরিজে? এর গল্প তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যারা তাদের শৈশবের এক বন্ধুর মৃত্যুর পর সন্দেহ করতে শুরু করে যে ঘটনাটি যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়। তদন্ত করতে গিয়ে তারা ধীরে ধীরে এমন এক রহস্যময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে বন্ধুত্ব, অতীত ও সত্যের সীমারেখা মিশে যায়। এটি এ বছরের নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজের একটি।

‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার
‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার

৪. ‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ (পিকক)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য ট্রেইটরস’ ইউকে নতুন করে এ বছর আলোচনায় এসেছে। এর চতুর্থ কিস্তি ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকদের জন্য এবারের গল্প একেবারেই নতুন ও একাধিক টুইস্টে ঘেরা ছিল। মূলত এটি একটি গেমভিত্তিক সামাজিক প্রতিযোগিতা। একদল প্রতিযোগী একটি নির্জন প্রাসাদে একত্র হয়, যেখানে কিছু বিশ্বাসঘাতক গোপনে ওত পেতে থাকে। অন্যরা বিশ্বস্ত হিসেবে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে একে অপরকে সন্দেহের তালিকায় এনে বাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতা। আগের কিস্তি গতি হারালেও এবার সিরিজটি নিয়ে বলা হচ্ছে, চতুর্থ মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা আরও জটিল, কৌশলনির্ভর ও নাটকীয় হয়ে উঠেছে, যা দর্শকদের জন্য টানটান উত্তেজনার অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. ‘আউটল্যান্ডার’ (স্টারজেড)
সিরিজটির অষ্টম ও শেষ মৌসুম ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। বলা যায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দর্শকদের জন্য এক আবেগঘন সমাপ্তি নিয়ে এসেছে সিরিজটি। স্টারজেডের টাইম-ট্রাভেল ও রোমান্সভিত্তিক সিরিজটি দীর্ঘ যাত্রার শেষে সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। গল্প শুরু হয় ক্লেয়ার র‍্যান্ডাল নামের এক নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে, যিনি রহস্যজনকভাবে অতীতে ফিরে যান এবং জেমি ফ্রেজারের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও সংগ্রামের গল্প শুরু হয়। ইতিহাস, যুদ্ধ, প্রেম ও সময় ভ্রমণের মিশেলে গড়া এই সিরিজে শেষ মৌসুমে তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, উত্তরাধিকার ও সময়ের জটিলতা আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। ৬ মার্চ এটি প্রচারিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার

৬. ‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ (অ্যাপল টিভি)
পঞ্চম মৌসুম দিয়ে এ বছরের আলোচিত সিরিজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপল টিভি প্লাসের বিকল্প ইতিহাসভিত্তিক মহাকাশ দৌড়ের ভিন্ন এক বাস্তবতার গল্প। যেখানে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর। রাজনৈতিক এই সিরিজের গল্প, সোভিয়েত ইউনিয়ন চাঁদে প্রথম পৌঁছে যায় এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতা থেমে না গিয়ে আরও বিস্তৃত হয়। পঞ্চম মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা চাঁদ পেরিয়ে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে সম্পদ, রাজনীতি ও মানবিক সম্পর্কের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। মহাকাশের এ লড়াই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এটি মার্চের ২৭ তারিখে প্রচারিত হয়।

৭. ‘হ্যাকস’ (এইচবিও)
অবশেষে আলোচনা দিয়ে শেষ হলো সিরিজ ‘হ্যাকস’–এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুম। গত এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে এর শেষ সিজন প্রচারিত হয়। সমালোচনাকারীদের মতে, সিরিজটির শেষ পর্ব দর্শকদের জন্য ছিল একই সঙ্গে চমকপ্রদ এবং গল্পের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। শেষ মুহূর্তগুলো এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যা সিরিজের সামগ্রিক সফলতাকে পূর্ণতা দিয়েছে। কী আছে সিরিজের গল্পে? লাস ভেগাসের এক কিংবদন্তি কমেডিয়ান এবং এক তরুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেখকের সম্পর্ক ঘিরেই এই সিরিজ শুরুতে জনপ্রিয়তা পায়। গল্পের নানা স্তরে রয়েছে রহস্য। বয়স, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সংঘর্ষ থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে জটিল পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। শেষ মৌসুমে এসে এই সম্পর্কের পরিণতি এবং শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উঠে এসেছে।
সূত্র: টিভিগাইড ডট কম

মাঠপর্যায়ে পুলিশি তদন্ত শুরু, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জট খুলেছে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলছেপ্রথম আলো ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দুই মাস স্থবির থাকার পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নির্বাচিত প্রার্থীর তথ্যসংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।

শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হলেও যোগদানপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশ ভেরিফিকেশনের এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুরসহ দেশের প্রায় সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই নির্বাচিত প্রার্থীদের ফাইল পুলিশ সুপারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের অগ্রগতির বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সারা দেশের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৮ এপ্রিল আমরা লালমনিরহাট জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। জেলার পাঁচটি উপজেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের মতো দেশের ৬১টি জেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ে সব ফাইল পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন হলেও অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে।’

আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস: কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না

এর আগে ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে অতি শিগগির নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না।’ তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্তের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যোগদানের পর শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে (পিটিআই) পাঠানো হবে। সেখানে প্রশিক্ষণে অকৃতকার্য হলে তাঁরা শিক্ষক হতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী দুই বছর সাফল্যের সঙ্গে চাকরি সম্পন্ন করলে তাঁদের স্থায়ী করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস পার হলেও নিয়োগ না হওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন এবং ৬১ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ১৩ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন তাঁরা। প্রার্থীদের এই টানা আন্দোলনের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিয়োগের প্রেক্ষাপট

দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতীক্ষার পর এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ায় মে মাসেই নিয়োগপত্র পাওয়ার আশা করছেন প্রার্থীরা।


Post a Comment

Previous Post Next Post