হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে জুনে
দুটি হাসপাতাল ঘুরে শয্যা না পেয়ে মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আনা হয় হামের উপসর্গ থাকা সাত মাস বয়সী ময়মুনাকে। সন্তানের কথা বলতেই কাঁদছেন লক্ষ্মীপুর থেকে আসা এই মা। গতকাল দুপুরে
হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।
সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে, কত শয্যা খালি, আইসিইউ খালি আছে কি না—এসব তথ্য সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশ করে না। অথচ কোভিড ১৯ মহামারির সময় এসব তথ্য দেওয়া হতো, যা রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হামের রোগীর তথ্য আমরা নিয়মিত প্রকাশ করছি। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিটি করপোরেশনগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা রোগীর তথ্য পাই। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য পৃথকভাবে নেই।’
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে না। ১ মে সারা দেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন। সাত দিন পর ৭ মে ভর্তি রোগী ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ জন। আরও সাত দিন পর অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার রোগী ছিল ৪ হাজার ১২১ জন।
সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হামের রোগীর তথ্য আমরা নিয়মিত প্রকাশ করছি। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিটি করপোরেশনগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা রোগীর তথ্য পাই। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য পৃথকভাবে নেই।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন
মার্চ মাসের মাঝামাঝি হামের প্রাদুর্ভব দেখা দেওয়ার পর যেসব হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল, সেগুলোর একটি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৬৪৮টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ মে ৮৫টি শিশু ভর্তি ছিল। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক প্রথম আলোকে বলে, ‘রোগীর চাপ সামান্য কমেছে। তবে আইসিইউতে রোগীর চাপ কমেনি।’
সরকার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু করে ৫ এপ্রিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ কমে এসেছে। অনেকে মনে করেন, দেশব্যাপী হামের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার এক–দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশে সংক্রমণ কমে আসবে। তবে সামনের কোরবানির ঈদের ছুটিতে এই সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।
রাজধানীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান প্রথম আলোকে বলেন, এখন মাঝেমধ্যে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু শিশু সর্দি–জ্বরে পড়ছে। কোরবানির ঈদের ছুটির সময় বাচ্চারা অবাধভাবে হইচই করবে, একে অন্যের সংস্পর্শে আসবে, এতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।
এই হাসপাতালে হামের রোগীর জন্য শয্যা বরাদ্দ ১০টি। গতকাল রোগী ছিল ৫৪ জন।
প্রতিরোধে জোর দিতে হবে
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার টিকা দেওয়া ছাড়া হামের রোগী কমাতে আর কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, স্পষ্ট করে করণীয় সম্পর্কে বলতে হবে। তাঁরা মনে করছেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যে মাত্রায় প্রচার চালানো দরকার, তা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালেরও কিছু করণীয় আছে।
বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সব রোগী হাসপাতালে নেওয়ার বা যাওয়ার দরকার নেই। রোগীদের বাড়িতে আইসোলেশনের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষকে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। সব রোগীর রোগ শনাক্তের জন্য পরীক্ষার দরকার নেই, ক্লিনিক্যালি রোগনির্ণয়ই যথেষ্ট।
হাসপাতালগুলোতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন মাহমুদুর রহমান। এগুলো হচ্ছে ১. কোন শিশুর জ্বর ও কোন শিশুর শরীরে র্যাশ আছে তা দেখে হাসপাতালে ভর্তির আগেই আলাদা করতে হবে, প্রতিটি হাসপাতালে হামের জন্য পৃথক কর্নার করতে হবে, রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; ২. প্রাকৃতিকভাবে হাওয়া–বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে; ৩. সেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সার্জিক্যাল মাস্ক দিতে হবে; ৪. সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে, নিয়মিত হাসপাতাল পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নের ব্যবস্থা রাখতে হবে; ৫. হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় দর্শনার্থীর ভিড় কমাতে হবে, একটি শিশুর কাছে একজনের বেশি সেবাদানকারী রাখা যাবে না।
সব রোগী হাসপাতালে নেওয়ার বা যাওয়ার দরকার নেই। রোগীদের বাড়িতে আইসোলেশনের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষকে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। সব রোগীর রোগ শনাক্তের জন্য পরীক্ষার দরকার নেই, ক্লিনিক্যালি রোগনির্ণয়ই যথেষ্ট।আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান
মৃত্যু সাড়ে চার শ ছাড়াল
হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল আট শিশুর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দুটি ঢাকা বিভাগের আর একটি করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আট শিশুর তিনটি ঢাকা বিভাগের, তিনটি চট্টগ্রাম বিভাগের আর একটি করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ফুটবলার রপ্তানি করে ব্রাজিল, এরপর কারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগে ব্রাজিলের ১,৪৫৫ জন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার খেলছেন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছে না। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দলটি শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারবে, এর বিপক্ষে বাজি ধরার লোকও কম নয়। অন্তত বর্তমান ফর্ম বিবেচনায়!
সেই ব্রাজিলই সারা দুনিয়ার ফুটবল লিগগুলোতে এখনো ফুটবলার রপ্তানিতে শীর্ষে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি’ বিশ্বজুড়ে ১৩৫টি পেশাদার লিগের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগে মোট ১,৪৫৫ জন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার খেলছেন। গত বছরও ফুটবলার রপ্তানিতে ব্রাজিল শীর্ষে ছিল। সে বছর বিশ্বের নানা লিগে খেলেছেন ব্রাজিলের ১৪১৮ জন ফুটবলার।
ব্রাজিল শীর্ষে থাকলেও খুব দ্রুত এই ব্যবধান কমিয়ে আনছে ফ্রান্স। বর্তমানে বিদেশে খেলা ফরাসি ফুটবলারের সংখ্যা ১,২৭৫ জন। গত পাঁচ বছরে ফ্রান্সের খেলোয়াড় রপ্তানির হার বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যাদের ১,০১৬ জন খেলোয়াড় বিদেশের লিগে খেলছেন। গত বছরও এই তিন দলই ছিল ফুটবলার রপ্তানিতে তালিকার শীর্ষে। তবে এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৬ জন ফুটবলার রপ্তানি এ বছর বেড়েছে ফ্রান্সের।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খেলোয়াড় পাঠানোর তালিকায় উন্নতি করেছে পর্তুগাল, স্পেন ও নাইজেরিয়াও। গত কয়েক বছরে পর্তুগালের খেলোয়াড় রপ্তানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে স্পেন ও নাইজেরিয়া—উভয় দেশেরই বৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব ফুটবলের বাজার এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত। ২০২১ সাল থেকে ফুটবলার রপ্তানি করা শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যে মাত্র ৯টি দেশের খেলোয়াড় বিদেশে যাওয়ার হার কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে সার্বিয়ার। ২০২১ সালের তুলনায় তাদের খেলোয়াড় রপ্তানি ১২ শতাংশ কমে গেছে।
সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় রপ্তানি করা দেশ ব্রাজিলের ফুটবলারদের প্রধান গন্তব্য পর্তুগালের লিগগুলো। এর বড় কারণ হতে পারে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর তাদের খেলোয়াড়দের চাহিদাও বিশ্ববাজারে বেড়ে গেছে।
নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৩ জন শনাক্ত, ‘তারাও রক্তমাংসের মানুষ’যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হামলার পর ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী নৌকায় আগুন ধরে যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত হয়। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন।
হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪ জন ভুক্তভোগীর কারও পরিচয় আদৌ শনাক্ত করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পরিবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর মাত্র তিনজনের নাম সামনে এসেছিল।
গত বছর ভেনেজুয়েলার কাছে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর সময় থেকে এসব হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এই হামলাগুলোকে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা করে আসছে। তাদের দাবি, যাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী ‘মাদক-সন্ত্রাসী’।
তবে ‘লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ বা ক্লিপের নেতৃত্বে ২০ জন সাংবাদিকের একটি যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক পাচারে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্লিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের সবাই—এমনকি যাঁরা মাদক পাচারে কিছুটা জড়িত থাকতে পারেন—লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায়ের মানুষ।২০ক্লিপের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস বলেন, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব হামলা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে যা ঘটছে, তা হলো চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে বাস করা এবং পরিবারকে সহায়তার জন্য যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হওয়া যুবকেরা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।
মারিয়া আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাবলো এসকোবার বা হোয়াকিন ‘এল চাপ’ গুজমানকে (মাদক সম্রাট) খতম করছে না।
এই অনুসন্ধান অন্যান্য প্রতিবেদন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের এই সিদ্ধান্তকেও জোরালো করেছে যে এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমাতে পারেনি; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে আগে থেকেই ভেঙে পড়া ও দুর্বল হয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলোকে আরও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
মারিয়া বলেন, এমন কিছু সম্প্রদায় রয়েছে, যেখানে মানুষ বোমা হামলার আতঙ্কে বেশ কয়েক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। আর মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেখানকার মানুষকে অনাহারে থাকতে হয়।
ক্লিপের পরিচালক বলেন, অনুসন্ধানের মূল প্রাপ্তিটি হলো ভুক্তভোগীদের বড় অংশের নাম ও পরিচয় সামনে নিয়ে আসা, যাতে দেখানো যায় যে তাঁরাও রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন। যদিও তাঁদের ব্যাপক একটি অংশ এখনো অজ্ঞাতনামা রয়ে গেছেন।
যুক্তরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘এয়ারওয়ারস’ এবং কলম্বিয়ার ‘এল ভেইন্তে’র সহায়তায় কলম্বিয়ার (কাসামাকোন্দো, ভেরদাদ আবিয়ের্তা ও ৩৬০-গ্রাদোস ডট কো), ভেনেজুয়েলার (আলিয়ানজা রেবেলদে ইনভেস্তিগা) এবং ‘ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো গার্ডিয়ান’-এর সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী গোষ্ঠীগুলো যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে।
মারিয়া জানান, স্বজন, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভয়ের মধ্যে থাকায় অনুসন্ধানটি করা ছিল ‘খুবই কঠিন’। তিনি আরও বলেন, ‘দাপ্তরিক সরকারি সূত্রগুলো, সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়—কেউই কথা বলতে চায়নি। কারণ, সবাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এবং প্রতিশোধের শিকার হওয়ার ভয়ে আছে।
এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে আটজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাঁরা হলেন হুয়ান কার্লোস ফুয়েন্তেস (৪৩), লুইস রামন আমুন্দারাইন (৩৬), এদুয়ার্দ হিদালগো (৪৬), দুশাক মিলোভচিচ (২৪) এবং রবার্ট সানচেজ, জেসুস কারেনিও, এদুয়ার্দো জাইমে ও লুইস আলি মার্তিনেজ (এই চারজনের বয়স জানা যায়নি)। তিনজন কলম্বিয়ার নাগরিক—আলেহান্দ্রো আন্দ্রেস কারানজা মেদিনা (৪২) এবং রোনাল্ড আররেগোসেস ও আদ্রিয়ান লুবো (এ দুজনের বয়স জানা যায়নি)। ইকুয়েডরের দুই নাগরিক হলেন পেদ্রো রামন হোলগুইন (৪০) ও কার্লোস ম্যানুয়েল রদ্রিগেজ সলোরজানো (৩৪)। ত্রিনিদাদের দুই নাগরিক হলেন চ্যাড জোসেফ (২৬) ও ঋষি সামারু (বয়স জানা যায়নি)। আরেকজন হলেন সেন্ট লুসিয়ার রিকি জোসেফ (বয়স জানা যায়নি)।
আমুন্দারাইন এবং ফুয়েন্তেস ভেনেজুয়েলার গুইরিয়া অঞ্চলের গাড়িচালক ছিলেন। গাড়ি ধোয়ার কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাঁরা পারিয়া উপসাগর পার হয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে যান। কয়েক দিন পর তাঁদের আরও দুজনের সঙ্গে একটি ছোট নৌকায় ভ্রমণের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর নৌকাটিতে বোমাবর্ষণ করা হয়।কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এ দুজনের বিধবা স্ত্রীরা ক্লিপকে বলেছেন, তাঁদের স্বামীদের কেউই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে ক্লিপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সব লক্ষণ ইঙ্গিত করে যে তাঁরা একটি ‘রান’ করতে যাচ্ছিলেন। ‘রান’ শব্দটি অবৈধ মালামাল পরিবহন বোঝাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
এরপরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে, সেটি হলো নৌযানটি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছিল। মারিয়া বলেন, ‘সাধারণত নৌযানগুলো দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর দিকে মাদক নিয়ে যায়, এর উল্টোটা নয়।’
কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
বিমান হামলা শুরুর পর গত আট মাসে নিহত ১৯৪ জনের কেউ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, সব হামলাই ছিল ‘পরিকল্পিত, আইনসম্মত ও নির্ভুল’, যা ‘মাদক-সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের’ লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান এবং তথ্য সরবরাহকারী গোয়েন্দাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
মারিয়া বলেন, নিহত সবাই যদি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতও থাকেন, তারপরও কোকেন পাচারের শাস্তি তো মৃত্যুদণ্ড নয়। তাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইনজীবী ব্রায়ান ফিনুকেন বলেছেন, এসব নৌযানে হামলা ট্রাম্পের মাদকবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযান নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি অংশত একটি সামরিক প্রদর্শনী ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন বীরত্বপূর্ণ কিছু করছে—এমন মোহ তৈরি করা।’
বিভিন্ন সংস্থা, দেশ এবং জাতিসংঘ এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। যদিও এ ধরনের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ব্রায়ান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ এবং মার্কিন রাজনীতিকদের কাছে এসব হত্যাকাণ্ড ‘স্বাভাবিক’ হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। কিংবা চলমান ইরান যুদ্ধের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের নানামুখী সামরিক হঠকারিতার আড়ালে এগুলো ‘নিছক সামান্য ঘটনা’ মনে হতে পারে।
এদিকে ক্লিপের পরিচালক বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মূল্য দিতে হচ্ছে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকেই। তিনি বলেন, ‘ওই পুরুষেরা বৈধ নাকি অবৈধ কাজ করছিলেন সেটি বড় নয়, বড় বিষয় হলো চরম দরিদ্র এই পরিবারগুলোর শিশুরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যিনি ঘরে খাবার নিয়ে আসতেন।’
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, তানজিদের অভিষেক
নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম।
তানজিদের অভিষেকের খবর তো আগেই পেয়েছেন, ওপেনিংয়ে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গী হবেন তিনি। আঙুলের চোটে ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাদশে আছেন মাহমুদুল। একাদশে আরও একটি পরিবর্তন আছে— ইবাদত হোসেনের বদলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম।
তানজিদের অভিষেক
ম্যাচের আগে টেস্ট অভিষেক ক্যাপ পেয়েছেন তানজিদ হাসান। সাদা বলের ক্রিকেট থিতু হয়ে যাওয়া এই ওপেনারের টেস্ট অভিষেক হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কিন্তু মন্দ করেননি এই বাঁহাতি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচে ৪০.৪২ গড়ে ১৭৯২ রান করেছেন, আছে ৫টি সেঞ্চুরিও।
তানজিদকে টেস্টের ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

Post a Comment