বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে নেইমারের বদলি নিয়ে এ কোন নাটক

 

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে নেইমারের বদলি নিয়ে এ কোন নাটক



মিডিয়া স্বাধীনতা জোরদারে নতুন কমিশন

সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শক্তিশালী করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে কিছু “অগণতান্ত্রিক” আইনি ধারা সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে।

 নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সুবিধা

New Zealand বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী সময়েও বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এতে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত লাভবান হতে পারে।

 সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ২৭ মে

Saudi Arabia ধুল হিজ্জার চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

 বিসিবি নির্বাচন ৭ জুন

Bangladesh Cricket Board-এর নির্বাচন আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ পরিষ্কার করেছে হাইকোর্ট।

 জাহাজ পুনর্ব্যবহারে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখন পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনর্ব্যবহারে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে। চট্টগ্রামের ১৭টি ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

 রোহিঙ্গা সংকট আরও বাড়ছে

গত ১৬ মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 যুব অপরাধ ও কিশোর বিচার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের কিশোর বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যুব অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

 উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সতর্কতা

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসে বিশেষজ্ঞরা “নীরব ঘাতক” হাইপারটেনশন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

 ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য

বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার জিতেছেন।

 গঙ্গা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। 

জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে সফরে নিতে চায় চীন, গুরুত্ব পেতে পারে যেসব বিষয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং

বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা–বেইজিং রাজনৈতিক স্তরে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিতে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরে নিতে আগ্রহী বেইজিং। চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোর কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘পরিকল্পিত’ চীন সফরের তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছানোর একই দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই চীন সফরে যাবেন। তারা (চীন) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডেভেলপমেন্ট পার্টনার (উন্নয়ন অংশীদার)। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন।

আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরে নিতে আগ্রহী বেইজিং। চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে।

৮ মে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন।

ঢাকা ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, ৬ মে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই–এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্তরে যোগাযোগ নিবিড় করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ছে। গত মাসে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বেইজিংসহ চীনের একাধিক প্রদেশ সফর করেছে। ওই সফরের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চীন সফরে গেছেন।

আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেশটি এ নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয় থেকেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে দুটি উদ্যোগে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের প্রসঙ্গ টেনে একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, এখনো সবকিছু চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বিশেষ করে চীনা শিল্প স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।

প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে যুক্ততায় চাপ

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর দেশের অবস্থান জোরদারের লক্ষ্যে উন্নয়ন ও নিরাপত্তাবিষয়ক চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ–জিডিআই), বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ–জিএসআই), বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ (গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ–জিসিআই) ও বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (গ্লোবাল গভার্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ–জিজিআই)—এ চার বৈশ্বিক উদ্যোগকে সিয়ের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিবেচনা করা হয়।

মূলত করোনাভাইরাস সংক্রমণের ধাক্কা উত্তরণের পর ২০২১ সালের পর থেকে গত চার বছরে এসব উদ্যোগ সামনে আনা হয়েছে। শুরু থেকেই প্রথম দুটি উদ্যোগে যুক্ত হতে চীন নানাভাবে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেশটি এ নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয় থেকেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে দুটি উদ্যোগে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জানুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশের সম্মতি পেলে প্রথম বৈঠক ইসলামাবাদে আয়োজনের প্রস্তুতিও ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়।

তিন থেকে চার দেশ, কৌশল বদল

বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে চীন এখন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক কাঠামোতেও ঢাকাকে যুক্ত করতে আগ্রহী।

২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসে ত্রিদেশীয় উদ্যোগ নিয়ে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল চীন। বাংলাদেশকে যুক্ত করতে ওই সময়ে কূটনৈতিক চাপ ও নানা পর্যায়ের আলোচনা চালানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে বেইজিং।

তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ত্রিদেশীয় উদ্যোগে অগ্রগতি না হওয়ায় এ বছরের জানুয়ারিতে হঠাৎ চার দেশীয় ফোরামের প্রস্তাব সামনে আসে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি এলেও নেপথ্যে ছিল চীন।

জানুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশের সম্মতি পেলে প্রথম বৈঠক ইসলামাবাদে আয়োজনের প্রস্তুতিও ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈশ্বিক ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ আর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো আলাদা করে দেখার সুযোগ কমছে।

ঢাকার হিসাব–নিকাশ

ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, গত তিন মাসে চীন ও পাকিস্তান অনানুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওই দুই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন সার্ককে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন নতুন আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে সময় নেওয়ার পক্ষে মত রয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো জোটে যুক্ত হওয়ার আগে কৌশলগত দিকগুলো বিবেচনা করা জরুরি।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈশ্বিক ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ আর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো আলাদা করে দেখার সুযোগ কমছে। ফলে বাংলাদেশ যখন কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে তখন ওই দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের সমীকরণকে বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বেইজিং সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানও কোন পথে এগোবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

সংশোধনী: চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই– এর নাম এই প্রতিবেদনে ভুলবশত ইয়াও ওয়েন লেখা হয়েছিল। এ জন্য আমরা দুঃখিত।

আপনার কাছ থেকে অগ্রিম কর নেয় কেন, কতটা যৌক্তিক
আয়কর রিটার্ন

মোটরসাইকেলের মালিকদের ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী বাজেটে এমন প্রস্তাব আসতে পারে। এ নিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার সকালে কয়েক শ মোটরসাইকেলচালক এর প্রতিবাদ করেছেন। অগ্রিম কর না বসাতে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।

শুধু মোটরসাইকেল মালিক নন, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, বাড়ি ও গাড়ির মালিকসহ সমাজের নানা শ্রেণি–পেশার করদাতাদের নানা কারণে অগ্রিম কর দিতে হয়, যা অনেক সময় যৌক্তিক হয় না। তবু করদাতাকে অগ্রিম কর দিতে হয়, যা করদাতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়কর বিভাগ প্রতিবছর যত টাকার আয়কর আদায় করে থাকে, এর মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আদায় হয় উৎসে বা অগ্রিম কর থেকে।

এখন প্রশ্ন হলো সরকার কেন আপনার কাছ থেকে অগ্রিম কর নেয়। এই অগ্রিম আয়কর নেওয়া কতটা যৌক্তিক।

১. করদাতার সামাজিক অবস্থান

করদাতার সামাজিক অবস্থান, আয়, বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পরিমাণ—এসব দেখে বোঝা যায় তাঁর করযোগ্য আয় আছে। এ ধরনের করদাতার কাছ থেকে এনবিআর অগ্রিম কর আদায় করে। তাঁদের করযোগ্য আয় আছে, এখন অগ্রিম কর দিলেও সমস্যা নেই। বছর শেষে রিটার্ন দেওয়ার সময় অগ্রিম কর দেওয়া করদাতারা তা সমন্বয় করতে পারবেন। কিন্তু মোটরসাইকেলের মালিকদের ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন মোটরসাইকেলের মালিকদের ওপর মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ক্ষমতাভেদে (সিসি ভেদে) ২ থেকে ১০ হাজার টাকা বসানোর যে চিন্তা করা হচ্ছে, তা অনেক বাইকারের কাছে অযৌক্তিক। তাঁদের আয়কর দেওয়ার করযোগ্য আয় নেই।

২. রাজস্বের চাপ সামলাতে

উৎসে বা অগ্রিম কর আদায় হলো এনবিআরের কর আদায়ের একটি সহজ পথ। রাজস্ব আদায়ের চাপে পড়ে কয়েক বছর ধরে এনবিআর এই সহজ পথে গেছে। বিভিন্ন খাতে উৎসে কর বা অগ্রিম কর বসিয়ে কর আদায় করা হয়। বছরের শেষে কর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে সারা বছর ধাপে ধাপে রাজস্ব সংগ্রহ করা যায়।

৩. কর ফাঁকি কমাতে

পণ্য আমদানি, গাড়ি নিবন্ধন, জমি বিক্রি বা ব্যাংক লেনদেনের সময় আগেই কর কেটে নেওয়ায় আয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হয়।

৪. করদাতাকে কর শোধে অভ্যস্ত করতে

একসঙ্গে বড় অঙ্কের কর না দিয়ে ধাপে ধাপে কর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যেমন প্রতি মাসে বেতন–ভাতা দেওয়ার সময় অনেক প্রতিষ্ঠান পে–রোল কর হিসেবে অগ্রিম কর কেটে রেখে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

৫. অপ্রদর্শিত আয় শনাক্ত করতে

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও লেনদেনের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন মিলিয়ে এনবিআর সহজে অসংগতি ধরতে অগ্রিম কর আরোপ করে।

৬. ব্যবসার লেনদেন নজরদারিতে

আমদানি, রপ্তানি, ঠিকাদারি, পরিবহন বা কমিশনভিত্তিক আয়ের ওপর অগ্রিম কর নেওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারের কাছে আসে।

৭. করব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় ও কার্যকর করতে

উৎসে কর কাটা বা অগ্রিম কর নেওয়ার মাধ্যমে আলাদা করে পরে কর আদায়ের চাপ কমে।

৮. সরকারের নগদের প্রবাহ বাড়াতে

সরকার উন্নয়ন ব্যয়, বেতন–ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য দ্রুত অর্থ পায়। কারণ, অগ্রিম কর সারা বছর আহরণ করা হয়।

৯. করের আওতা বাড়াতে

অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন না দিলেও বিভিন্ন সেবার সময় অগ্রিম কর দেওয়ার মাধ্যমে কর নেটের মধ্যে আসে।

১০. অর্থনীতির লেনদেনের তথ্যভান্ডার তৈরি করতে

ব্যাংক, সম্পদ ক্রয়–বিক্রয় ও আমদানির তথ্য থেকে কর কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারে।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে নেইমারের বদলি নিয়ে এ কোন নাটক

আজ সোমবার রাত বাংলাদেশ সময় ২টায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দল ঘোষণার সময় একটি নামের দিকে চোখ থাকবে সবার—নেইমার। গতকাল রাতে নিজেকে প্রমাণের জন্য শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। কিন্তু এমন ম্যাচেই নেইমার শিকার হয়েছেন অদ্ভুত এক প্রহসনের।

ব্রাজিলিয়ান লিগে কোরিতিবার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফোর্থ অফিশিয়ালের ভুলে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নেইমার। মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এভাবে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় এই ফরোয়ার্ডকে।

গতকাল রাতে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোটের চিকিৎসা নিতে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। ঠিক তখনই চতুর্থ অফিশিয়াল বদলির বোর্ডে ১০ নম্বর দেখান। তখন ম্যাচের ৬৫ মিনিট। সেই অফিশিয়াল বদলির এই বোর্ড দেখিয়ে নেইমারের বদলি হিসেবে নামানোর ঘোষণা দেন রবিনিও জুনিয়রকে।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আসলে বদলি হওয়ার কথা ছিল গনসালো এস্কোবারের। এমন পরিস্থিতিতে রেফারি বা লাইনসম্যানের অনুমতি ছাড়াই মাঠে ঢুকে পড়েন নেইমার এবং তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি।

এরপর ক্ষুব্ধ নেইমার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বদলির কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেখান। তিনি বোঝান, এস্কোবারের বদলির নম্বরের জায়গায় ভুল করে তাঁর জার্সি নম্বর দেখানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নেইমার মাঠ ছাড়েন এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দেন এস্কোবারের হাতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সান্তোস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চতুর্থ কর্মকর্তা বদলির ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। টেলিভিশনের ফুটেজ ও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত নোটেও সেটি পরিষ্কার দেখা গেছে। অথচ এই অবিশ্বাস্য ভুলটি আর সংশোধন করা হয়নি।’

এদিকে রেফারি পাওলো সেজার জানোভেলি দা সিলভার সই করা প্রতিবেদন বলছে ভুলটা সান্তোসের পক্ষ থেকেই হয়েছে। নেইমারকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সান্তোসের সহকারী কোচ সেজার সাম্পাইও। সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বর্তমানে দলের কোচিং স্টাফে আছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চতুর্থ কর্মকর্তার ঘোষণায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তার সূত্রপাত হয়েছিল সাম্পাইওয়ের দেওয়া সেই নির্দেশ থেকেই।

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ম্যাচের ২০তম মিনিটে চতুর্থ কর্মকর্তা ব্রুনো মোতা কোরেইয়াকে সান্তোসের সহকারী কোচ কার্লোস সেজার সাম্পাইও ক্যাম্পোস মৌখিকভাবে জানান যে একটি বদলি হবে এবং সেই বদলিতে নেইমারকে তুলে নেওয়া হবে। তখন তিনি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য মাঠের বাইরে ছিলেন। তথ্য পাওয়ার পর চতুর্থ কর্মকর্তা বদলির বোর্ড হাতে নিয়ে আবার সান্তোসের সহকারী কোচের দিকে ফিরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান। তখন তিনি কথায় ও ইশারায় সেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সময়ে ম্যাচ ডেলিগেট গিলহার্মে জানগারি দা রোশার সঙ্গে মিলে বদলির স্লিপ পূরণ করা হচ্ছিল। তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পুরো বিষয়টি শুনেছেন।’

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোল ৭৯টি। তবে চোটের কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি।

Post a Comment

Previous Post Next Post