Top News

আজকের বাংলাদেশের প্রধান খবর (৫ জুন ২০২৬)

 

আজকের বাংলাদেশের প্রধান খবর (৫ জুন ২০২৬)

  • বাংলাদেশ সরকার নতুন IMF ঋণ কর্মসূচির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • মে মাসে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ৩.৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা টানা ষষ্ঠ মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
  • বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে কথিত “পুশ-ইন” ইস্যু নিয়ে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের সীমান্ত বৈঠকে আলোচিত হবে।
  • জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে “USA Roadshow 2026” শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

🌧️ আবহাওয়া

ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

🏙️ রাজধানী

ঈদ উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC) বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

⚽ খেলাধুলা

বাংলাদেশ ফুটবল দল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।

দাদির উপহার এক ভেড়া, আজ ৯৮টির বিশাল পাল
ভেড়ার পাল নিয়ে বাড়িতে ফিরছেন আশিক চৌধুরী। ছবিটি বুধবার দুপুরে কুসুম্বা-চানপাড়া সড়কে তোলাছবি : প্রথম আলো

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় দাদির দেওয়া একটি ভেড়া ছিল তাঁর জীবনের প্রথম সম্পদ। সেই একটি ভেড়াকেই পুঁজি করে শুরু হয়েছিল পথচলা। এক যুগের বেশি সময়ের পরিশ্রম, ধৈর্য ও যত্নে আজ সেই একটি ভেড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮টির বিশাল পালে। এবারের ঈদুল আজহার আগে ২৬টি ভেড়া বিক্রি করে আয় করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার তরুণ আশিক চৌধুরীর (২১) এই সাফল্যের গল্প এখন অনেক তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমার দাদি আমাকে একটি ভেড়া উপহার দেন। সেই ভেড়ার দেখাশোনা করতেন আমার মা। পরে ভেড়াটি বাচ্চা দেয়। ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। কখনো হাল ছাড়িনি। নিয়মিত যত্ন নিয়েছি, রোগবালাই থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আজ সেই একটি ভেড়া থেকে ৯৮টি ভেড়ার পাল গড়ে উঠেছে।

আশিক চৌধুরী উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুর রহিম চৌধুরীর ছেলে। ২০২২ সালে হাকিমপুর কৈজুরী বিএনআর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে ২০২৪ সালে ঢাকার ডেমরার ডক্টর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি পুরো সময় দিচ্ছেন ভেড়া পালনে। তবে সুযোগ হলে আবারও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

‎গতকাল বুধবার দুপুরে কুসুম্বা-চানপাড়া সড়কের পাশের মাঠে দেখা যায় আশিককে। বিশাল ভেড়ার পাল নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রাণবন্ত হাসিমুখে শোনালেন নিজের সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প। ‎আশিক বলেন, ‘আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমার দাদি আমাকে একটি ভেড়া উপহার দেন। সেই ভেড়ার দেখাশোনা করতেন আমার মা। পরে ভেড়াটি বাচ্চা দেয়। ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। কখনো হাল ছাড়িনি। নিয়মিত যত্ন নিয়েছি, রোগবালাই থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আজ সেই একটি ভেড়া থেকে ৯৮টি ভেড়ার পাল গড়ে উঠেছে।’

ভেড়ার পালের সঙ্গে আশিক চৌধুরী
ভেড়ার পালের সঙ্গে আশিক চৌধুরী
ছবি: প্রথম আলো

আশিক চৌধুরী জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ভেড়ার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ বছর ঈদের আগে তিনি ২৬টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ভবিষ্যতে ভেড়ার খামার আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি গরুর খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

আশিকের মা রেহেনা খাতুন বলেন, ‘শুরুর দিকে আশিকের কাছে এটা ছিল শখের মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছোটবেলা থেকেই আশিক পশুপাখি খুব ভালোবাসে। নিজের সন্তানের মতো করে ভেড়াগুলোর যত্ন নেয়। তার এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফল এখন সবাই দেখতে পাচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার ছেলের আরও বড় খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, ‎পরিকল্পিতভাবে পশুপালন করেও যে সফল হওয়া যায়, আশিক তার উজ্জ্বল উদাহরণ। দাদির উপহার পাওয়া একটি ভেড়া থেকে আজ প্রায় ১০০টি ভেড়ার মালিক হয়েছেন। তাঁর এ গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোক্তা হওয়ার।

পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাসান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশিক চৌধুরী একটি ভেড়া থেকে অনেকগুলো ভেড়ার মালিক হয়েছেন। তিনি একজন সফল খামারি। আমরা নিয়মিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট করি।’

কিউবার প্রেসিডেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা (মার্কিন) অভিযোগসহ দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নানা নীতির প্রতিবাদে রাজধানী হাভানায় সরকারি কর্তৃপক্ষের ডাকা এক সমাবেশে যোগ দেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। ২২ মে, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন এ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট ছাড়াও আরও চার ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন দিয়াজ-কানেলের স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দুজন সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

৬৬ বছর বয়সী দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সাল থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এ দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিউবার সাবেক বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে তিনি এ দায়িত্ব নেন।

কিউবার কমিউনিস্ট নেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, দিয়াজ-কানেলের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা তারই সর্বশেষ অংশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় কিউবা যেন একটি ‘চমৎকারভাবে পরিচালিত দেশ’ হয়। ঠিক তখনই এ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। একে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করে রদ্রিগেজ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই ব্যর্থ হতে বাধ্য।’

এর আগে গত মাসে কিউবার তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী, বেশ কয়েকজন সামরিক নেতা এবং প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১১ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন সরকার।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার জেরে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি দলের পরিচালিত বিমান লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল কিউবার যুদ্ধবিমান।

বাইক, অটোরিকশা ও সম্পদে কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার
জাতীয় সংসদ ভবন

রাজস্ব আয় বাড়াতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর চিন্তা করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিত্তশালী ব্যক্তিদের ওপরও সংস্থাটি সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সংস্থাটি; কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সবুজসংকেত না পাওয়ায় আপাতত এসব কর আরোপের চিন্তা থেকে পিছু হটেছে এনবিআর।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাজেট নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কিছু নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী এনবিআর বাইক (মোটরসাইকেল) ও অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত পদক্ষেপ থেকে সরে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআর–সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা করের আওতা বাড়ানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলাম; কিন্তু সরকারের সবুজসংকেত না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে এসব করারোপের চিন্তা বাদ দিতে হচ্ছে। তাই বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী কর আদায়ে জোর দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ, এবার করহার সেভাবে বাড়ছে না।’

ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ করার জন্য সরকার সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নতুন বাজেটে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত নিট সম্পদকে করছাড় দিয়ে ৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে দশমিক ২৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা করেছিল এনবিআর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর পক্ষে নয় সরকার। তাই ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের করারোপের প্রস্তাবগুলো বাদ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাইক ও অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত পদক্ষেপ থেকে সরে আসে এনবিআর।
* নতুন বাজেটে কর ও ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের সংস্কার এবং করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  
* অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন সংসদে এই সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন।

বাইক-অটোরিকশায় কর

বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল এনবিআর। গ্রাম-শহর ভিত্তিতে করের হার এক হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের চিন্তা ছিল এনবিআরের। তাতে এ খাত থেকে হাজার কোটি টাকার কর আদায়ের সম্ভাবনা ছিল।

একইভাবে মোটরসাইকেলের মালিকদের কাছ থেকেও অগ্রিম আয়কর নেওয়ার চিন্তা করেছিল এনবিআর। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রস্তাবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা ও ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু নতুন এ প্রস্তাব নিয়ে বাইকাররা আন্দোলনে নামেন। তাঁরা এনবিআরের সামনে মানববন্ধন করেন। তরুণ বাইকাররা সেখানে জড়ো হয়। ফলে বাইকের ওপর করের বোঝা চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে সরকার।

ন্যূনতম কর সমন্বয়

‘ন্যূনতম কর’ আদায় করা হলেও পরে তা ফেরত না দেওয়া কিংবা সমন্বয় করা হয় না বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ন্যূনতম কর ও উৎসে কর (টিডিএস) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এনবিআর। নতুন নিয়মে উৎসে কাটা কর আর চূড়ান্ত ন্যূনতম কর হিসেবে আটকে থাকবে না। বছর শেষে প্রকৃত করদায়ের সঙ্গে তা সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন করদাতারা। অতিরিক্ত কর কাটা হলে তা পরবর্তী বছরে সমন্বয় করা হবে বা আবেদন করলে তিন মাসের মধ্যে ফেরত পাওয়া যাবে।

বর্তমানে উৎসে কাটা কর অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত করদায়ের চেয়ে বেশি হলেও তা ফেরত বা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। এতে কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অতিরিক্ত করের চাপ নিতে হয়। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।

উৎসে কর সমন্বয়ের নতুন ব্যবস্থা ই-টিডিএস বা ডিজিটাল–পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্প, আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম এই কর ফেরত না দেওয়া নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। এবারে বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে বিপুল অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কর ও ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের সংস্কার এবং করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

আরও একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সামনে বিসিবি
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়প্রথম আলো

সভাপতি যায়, সভাপতি আসে। এক পরিচালনা পর্ষদ গিয়ে আসে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তবু থেকেই যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ে সভাপতি, সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সভাপতি, সাবেক ক্রিকেটার পরিচয়ে সভাপতি—কেউই পারেন না বিসিবিকে স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে।

নির্বাচনকালীন বিসিবির প্রধান যে–ই থাকুন না কেন, সেটা নির্বাচিত সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক কমিটির প্রধান পরিচয়েই হোক; নির্বাচন হবে অনিয়ম, বিতর্ক আর ক্ষমতার চাপে বিরোধী পক্ষকে কোণঠাসা করার চর্চা অব্যাহত রেখে—এটাই যেন রীতি!

আলোচিত ৭ জুনের নির্বাচনও সে পথেই এগোচ্ছে। ১৬ মে তফসিল ঘোষণার পর গত কয়েক দিনে একটার পর একটা প্রক্রিয়া পার হয়ে নির্বাচন এখন ব্যালট বাক্সে ঢোকার দ্বারপ্রান্তে। অতীতের মতো এই নির্বাচনও প্রতিটি পদক্ষেপে শরীরে বিদ্ধ করে নিয়েছে সমালোচনার কাঁটা। যেকোনো মূল্যে বিসিবিতে বসার লজ্জাজনক সংস্কৃতি থেকে যেন মুক্তি নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের!

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের আহ্বায়ক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের। সেই আশার গুড়ে বালি পড়েছে। কারণ, সভাপতি তামিমসহ আহ্বায়ক কমিটির ১১ সদস্যের ৭ জন নিজেরাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে গঠণতান্ত্রিক বাধা না থাকলেও নৈতিকতার প্রশ্ন তো আসেই।

আহ্বায়ক কমিটি অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা নেই। কারণ, নির্বাচন তো পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। হ্যাঁ, ঠিক তাই। তবে এ ধরনের কথা গত নির্বাচনে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং তাঁর সঙ্গীদের মুখেও শোনা গিয়েছিল। সেই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও ছিল নির্বাচন কমিশনের। তারপর কী হয়েছে, সেটি অস্বচ্ছতার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করা তামিম ও তাঁর সঙ্গীদের চেয়ে কারও ভালো জানার কথা নয়।

গত ৭ এপ্রিল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়
গত ৭ এপ্রিল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়
প্রথম আলো

নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া বিসিবির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি শুরুতেই বিশেষ এক বিশেষণে ভূষিত হয়েছে, যেটি আসন্ন নির্বাচনে আরও ‘উজ্জ্বল’ হতে চলেছে। তামিমের অন্তর্বর্তী বোর্ডের নাম পড়েছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড।’ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সন্তানেরা কমিটিতে সুযোগ পাওয়ায় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এক সংসদ সদস্যই দিয়েছেন এমন স্যাটায়ারধর্মী বিশেষণ, যেটি পরে ছড়িয়ে পড়ে দেশের মানুষের মুখে মুখে।

আইসিসির প্রতিনিধিদের কাছে বিসিবির নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দেওয়ার দাবি আগের বোর্ডের

তাঁদের অধীনে ৭ জুনের নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া ‘প্রার্থী’দের জন্য অবশ্য আরও কিছু ‘বাপের দোয়া’সহ ‘ভাইয়ের দোয়া’, ‘চাচার দোয়া’, ‘মন্ত্রীর দোয়া’ও থাকবে। সব মিলিয়ে প্রার্থীদের প্রায় এক–তৃতীয়াংশই ‘দোয়ানির্ভর’। তাঁরা বর্তমান সরকারি দলের সংসদ সদস্য অথবা মন্ত্রীদের আত্মীয়স্বজন, অনেকের আবার নিজেদেরই আছে রাজনৈতিক পরিচয়। প্রার্থী তালিকা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ১৮৪ জনের কাউন্সিলর বা ভোটার তালিকার দিকে তাকালে এমন মুখ ভেসে উঠবে আরও অনেক।

বিসিবির এবারের নির্বাচনও তাই আগের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়েছে। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি–১ থেকে পরিচালক হবেন ১০ জন। এর মধ্যে ৭ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। নির্বাচন হবে শুধু খুলনার দুটি ও বরিশালের একটি পদের জন্য, তা–ও হয়তো নামমাত্রই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ক্যাটাগরি–৩ এর একমাত্র পরিচালকও।

দুজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ঢাকার ক্লাবগুলোকে নিয়ে ‘ক্যাটাগরি–২’ এ প্রার্থী সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১৬ জন হয়েছে। এখানে পরিচালক হবেন ১২ জন, ‘ইলেকশন মেকানিজম’ এ ‘সাফল্য’ পেয়ে ৭–৮ জন এরই মধ্যে নিশ্চিন্ত। বাকি পদগুলোতে কাদের নির্বাচিত করতে হবে, কাদের বাদ দিতে হবে; তা নিয়েও ওপর মহলের চাপ আছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে ক্লাব ক্যাটাগরির প্রভাবশালী প্রার্থীদের সঙ্গে সরকারপক্ষের একাধিক সভা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এসব কথা আবার কোণঠাসা প্রার্থীরা প্রকাশ্যে বলেন না। হতে পারে তা ভয় কিংবা বিসিবির পরিচালক পদ ‘বিসর্জন’ দিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো লাভের আশায়।


ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হতে মন্ত্রী–এমপির স্বজনদের ভিড়

৭ জুনের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা তুললেই বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে তো ক্রিকেট বোর্ডে আগেও অনেকে এসেছেন। এবার তাহলে সমস্যা কী! হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছেন এবং সেটাও ঠিক হয়নি। অতীতের সেই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতেই তো তামিমের আহ্বায়ক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার। সেই তাঁরাই যখন বিসিবির নির্বাচনটাকে রাজনীতির পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন, কথা তো হবেই। শুধু কথা কেন, পরিচালক পদপ্রার্থীদের ‘প্রোফাইলে’র কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবেও রেকর্ড গড়ে ফেলতে পারে এটি।

আর রাজনৈতিক পরিচয়ে বিসিবিতে আগে অনেকে এলেও এবারের সঙ্গে সেসবের পার্থক্য আছে। আগে যাঁরা এভাবে পরিচালক হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা ছিল। বাংলাদেশের প্রায় সব ক্লাবেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে। জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাতে তো আছেই। কাজেই এসব জায়গা থেকে আসা সংগঠকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আগে এমন পরিচালকদের সেই পরিচয় ঢাকা পড়ে যেত সংগঠক পরিচয়ের আড়ালে। বিএনপিপন্থী ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে সে রকম যোগ্য মানুষের অভাব নেই। কিন্তু কেন যেন এবারের নির্বাচনে তাঁরা ব্রাত্য। হয়তো তাঁদের জন্য কারও ‘দোয়া’ নেই বলেই।

বিসিবি পরিচালনা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন হন ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর
বিসিবি পরিচালনা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন হন ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর
ফাইল ছবি: প্রথম আলো
যেকোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর নাম বললে আগে তাঁর ক্রীড়া সংগঠক পরিচয়টাই সামনে আসা উচিত, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে সেটি আসবে পরে। এবার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। কারও না কারও ‘দোয়া’ বা ‘আশীর্বাদ’ না থাকলে পরিচালক পদে নির্বাচন করা দূরে থাক, এই প্রার্থীদের অনেকে হয়তো বিসিবির কাউন্সিলরই হতে পারতেন না।

জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়ন থেকে শুরু করে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা; এমনকি ক্লাব থেকে কারা পরিচালক হবেন—সবই যেন আগেই ছক কষে ঠিক করা। অনেক জেলার অ্যাডহক কমিটি জানতও না, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি (পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক) কার নাম বিসিবিতে কাউন্সিলর (ভোটার) হিসেবে পাঠিয়েছেন। সঙ্গে আগের মতোই যোগ হয়েছে সন্দেহজনক ই-ভোট।

তাহলে আর পরিবর্তনটা কী হলো! অ্যাডহক কমিটি করেও নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা কোথায়? পরিস্থিতি যা, তাতে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার স্লোগানটাকে বায়বীয় প্রমাণ করতে হয়তো বিসিবির ৭ জুনের একপেশে নির্বাচনই যথেষ্ট হবে।

‘বাংলাদেশ পুরো শক্তি নিয়ে আসবে’—ফাইনালের আগে ভারতের কোচ
ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রীক্রিস্পিন ছেত্রীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

ভুটানের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়ের পর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। তবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে নামার আগে কোনো রকম ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা দেখছেন না ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। গ্যালারিতে স্বাগতিক দেশের কোনো দর্শক না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ছেত্রীর প্রশ্ন, ‘মাঠে কোনো ভারতীয় দর্শক দেখেছেন?’

ছেত্রীর মতে, গ্যালারি ফাঁকা থাকায় ফাইনালটি হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচের মতো, যেখানে দুই দলের সুযোগই থাকবে সমান—অর্থাৎ, ‘৫০-৫০’। একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালের মহারণে নামার আগে দলের ফুটবলারদের বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ছেত্রী।

গতকাল গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১১টা ছুঁই ছুঁই। অষ্টম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। কিন্তু ফাইনালে ওঠার আনন্দ ছাপিয়ে তাঁর কণ্ঠে ঝরল তীব্র আত্মসমালোচনা।

দার্জিলিংয়ে কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা এই কোচ অকপটে স্বীকার করলেন, এই জয় তাঁদের প্রাপ্য ছিল না, ‘আমরা মোটেও ভালো খেলিনি। জয় আমাদের প্রাপ্য নয়, তবু আমরা ১-০ গোলে জিতেছি। ফুটবল কখনো কখনো শুধু টেকনিক আর ট্যাকটিকসের খেলা নয়, এটা মনেরও খেলা। ভুটানের মেয়েরা একেকজন যোদ্ধার মতো খেলেছে। আমার মতে, জয়টা তাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমাদের ৯০ মিনিটজুড়েই ভালো খেলা উচিত ছিল।’

ভারতের কোচ মনে করেন, ভুটানকে তাঁরা বড্ড হালকাভাবে নিয়ে ফেলেছিলেন এবং প্রথমার্ধেই সৌভাগ্যবশত ২ গোল হজম করেননি তাঁরা। তবে আগামী শনিবার ফাইনাল ম্যাচটি যে পুরোপুরি অন্য এক ম্যাচ হবে, তা ভালো করেই জানা আছে এ কোচের।

ফাইনালে বাংলাদেশকে সমীহ করে ছেত্রী বলেন, ‘ওটা ভিন্ন ম্যাচ। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ফাইনালে পুরো শক্তি নিয়ে আসবে। আমাদের জন্য ফাইনাল মোটেও সহজ হবে না। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে আমাদের আলাদা কোনো উজ্জ্বীবনী শক্তির দরকার নেই, এটা এমনিতেই চলে আসবে।’

ফাইনালে ওঠার পর ভারতের মেয়েদের উদ্‌যাপন
ফাইনালে ওঠার পর ভারতের মেয়েদের উদ্‌যাপন
সাফ ফেসবুক পেজ

প্রথম আলোর প্রতিনিধির এক প্রশ্নের উত্তরে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা বা ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’-এর বিষয়টি উড়িয়ে দেন ছেত্রী। শূন্য গ্যালারির প্রতি ইঙ্গিত করে ছেত্রী বলেন, ‘হোম অ্যাডভান্টেজ বলে কিছু নেই, আমি তা ভাবছিও না। আপনি মাঠে কোনো দর্শক দেখেছেন? না। কোনো ভারতীয় দর্শক নেই গ্যালারিতে। ফলে এখানে ঘরের মাঠে খেলার কোনো ব্যাপার নেই। মনে করুন, কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হচ্ছে।’

জাদু নয়, সাধারণ বোধবুদ্ধির জয়—নেপালকে বিদায় করে বাটলারের তৃপ্তি

ছেত্রী বলেন, ‘প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের পক্ষে তাদের হাজারখানেক সমর্থক এসেছিল, কিন্তু ভারতের মানুষ আসেনি। তাই এটি একটি নিরপেক্ষ মাঠ মনে হয় আমার কাছে। ফাইনাল হবে ৫০-৫০ ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে (বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারায় ভারত)  যা-ই হোক না কেন, এটি নতুন ম্যাচ। আর ফাইনালে যারা প্রথম গোল করতে পারবে, তারাই মানসিকভাবে এগিয়ে যাবে।’

নেপালের বিপক্ষে জিতে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ
নেপালের বিপক্ষে জিতে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ
বাফুফে
প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানের কঠিন জয় নিয়েও কথা বলেন ছেত্রী। শেষ মুহূর্তের (৯৩ মিনিট) গোলে বাংলাদেশের জয় নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘খেলাটা কতটা কঠিন ছিল, এই স্কোরলাইনেই তা স্পষ্ট।’

ভারতের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে হেরে যাওয়া ভুটানের কোচ কিম টে-ইন সংবাদ সম্মেলনে নিজের দলের মেয়েদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তবে ফাইনালের ফেবারিট কে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘নো কমেন্টস’ বলে এড়িয়ে যান।

মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে শাকিব, কেমন হলো ‘রকস্টার’mmm
‘রকস্টার’–এ শাকিব খানের সঙ্গে দেখা গেছে তানজিয়া মিথিলা ও সাবিলা নূরকে। কোলাজ

নিজেকে ভাঙাগড়ার খেলায় মেতেছেন শাকিব খান। প্রতি ঈদে তিনি যেমন নতুন পরিচালকদের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তেমনি নিজেকে নিয়েও করছেন দেদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শাকিব খান নিজেকে ভাঙছেন ঠিকই, কিন্তু পরিচালকেরা কি তাঁকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারছেন? কথা হচ্ছিল ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে। টিজার, পোস্টার আর গান দিয়ে মুক্তির আগে যেভাবে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ জাগিয়েছিলেন নতুন পরিচালক, সিনেমা হলে গিয়ে সেসবের প্রতিফলন কতটা দেখতে পেলেন দর্শকএকনজরে
সিনেমা: ‘রকস্টার’
ধরন: রোমান্টিক ড্রামা
চিত্রনাট্য: নুসরাত মাটি
সংলাপ: আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভুঁইয়া
পরিচালনা: আজমান রুশো
অভিনয়: শাকিব খান, সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা, সুনিধি নায়েক, তারিক আনাম খান, রোজী সিদ্দিকী ও কাজী সাবির
দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট

শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, ‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।

সিনেমার নাম শুনেই বোঝা যায় এটি একটি মিউজিক্যাল সিনেমা। যেখানে গানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে সিনেমার গল্প। গল্পের শুরু স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকদের ‘আগুন, আগুন’ চিৎকারে। এরপর গ্রিনরুমে বসে থাকা নতুন এক শাকিব খানকে দেখে নড়েচড়ে বসেন দর্শক। নতুন এক শাকিব খানের সঙ্গে পরিচিত হন দর্শক।

এরপর অতীতে ফিরে যায় গল্প। আগুন এক সংগীত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা ওস্তাদ জুনায়েদ (তারিক আনাম খান), বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ। তবে শুরুতেই বোঝা যায়, বাবার ছায়া থেকে বের হয়ে নতুন কিছু করতে চায় আগুন। তাই সে বেছে নিয়েছে রক গানের ধারা। একা একা দাদির (দিলারা জামান) কাছে বড় হয় ছোট্ট আগুন। ভেঙে যাওয়া পরিবারে বড় হওয়ার দুর্বিষহ যন্ত্রণা যেন আগুনকে সব সময় দগ্ধ করে।

আগুন একটি ব্যান্ডের সদস্য। ব্যান্ডের সব গান সে নিজেই লেখে। তবে মাইক হাতে তাকে কখনো দেখা যায় না। কারণ, শৈশবের মঞ্চভীতি। একদিন ব্যান্ডের লিড ভোকালের অনুপস্থিতে মঞ্চে ওঠেন আগুন। আর সেদিনই মাত করে ফেলেন তিনি।
কনসার্টের মধ্যেই একটি মেয়ে আগুনের নজর কাড়ে। গান শেষে হয় মীরা (সাবিলা নূর) নামের সেই মেয়েটির সঙ্গে আগুনের পরিচয়। দ্রুতই ভালোবাসায় রূপ নেয় পরিচয়। প্রথম গানে ভাইরাল হয়ে ওঠা আগুনের সামনে একের পর এক আসতে থাকে বড় প্রযোজনা সংস্থার প্রস্তাব। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠে আগুন। আর বিখ্যাত হওয়াই যেন অভিশাপ হয়ে ওঠে আগুনের জন্য। নেশার কবলে পড়ে সে হিতাহিতজ্ঞান হারায়। আগুন কি পারে সব ঠিক করে উঠে দাঁড়াতে? নাকি নেশার চোরাবালিতে হারিয়ে যায়?

‘রকস্টার’–এ সাবিলা ও শাকিব। ভিডিও থেকে
‘রকস্টার’–এ সাবিলা ও শাকিব। ভিডিও থেকে

‘রকস্টার’ যতটা না মিউজিক্যাল, তার চেয়ে বেশি রোমান্টিক ড্রামা। সংগীতশিল্পীর জীবনে আসা প্রেম, বিচ্ছেদ আর তার পরিণতি নিয়ে দুনিয়ার নানা প্রান্তে বহু সিনেমা হয়েছে। ‘রকস্টার’ও সে ধারা মেনেই এগিয়েছে। এই সিনেমা আপনাকে দুভাবে চমকে দেবে—ভিজ্যুয়াল আর শাকিব খান।

‘রকস্টার’ সিনেমাতে এক সংগীতশিল্পীর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং যথাযথ ছিল। ব্যান্ডের প্র্যাকটিস প্যাড, খুনসুটি, বিদেশে বিশাল কনসার্ট—সবই বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। এ জন্য চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুনের ধন্যবাদ প্রাপ্য। এআইয়ের ব্যবহারও ছিল ভালো। আগুন গান লেখে। তাঁর ঘরের দেয়ালজুড়ে বব মার্লে, ওয়েসিসের পোস্টার; যা দিয়ে অগ্রজ কিংবদন্তি শিল্পী আর ব্যান্ডকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন নির্মাতা। সিনেমার সেরা রোমান্টিক মুহূর্তগুলোর একটি ছিল সুউচ্চ ভবনের ছাদে বসে আগুন আর মীরা কথা বলা।

‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খানের সঙ্গে তানজিয়া জামান মিথিলা
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খানের সঙ্গে তানজিয়া জামান মিথিলা
ছবি : শাকিব খানের ইনস্টাগ্রাম থেকে

এই সিনেমায় কোনো অ্যাকশন নেই, এটাই ছিল শাকিব খানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শৈশবের যন্ত্রণা, ভুল সঙ্গ আর প্রেমিকার ছেড়ে যাওয়ায় আগুন নেশা করতে শুরু করে। ‘বরবাদ’-এ এ ধরনের চরিত্র তিনি করেছেন। তাই মূল চ্যালেঞ্জ ছিল গায়ক হিসেবে আর রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তাঁর অভিব্যক্তি। দুই ক্ষেত্রে ভালো করেছেন তিনি। বিশেষ করে অসহায়ত্ব আর ভেঙে পড়ার দৃশ্যগুলো দেখে শাকিবকে নতুন করে আবিষ্কার করবেন দর্শক।

মীরা চরিত্রে সাবিলাও যথাযথ। গত বছর ‘তাণ্ডব’, ঈদুল ফিতরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর এবার ‘রকস্টার’—টানা তিন ঈদের সিনেমায় অভিনেত্রীকে দেখা গেল। ভিন্ন তিন চরিত্রে উতরে গিয়ে নিজের অভিনয়–দক্ষতারই জানান দিয়েছেন সাবিলা। বিশেষ করে শাকিবের সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো আর ‘আমি যাব হারিয়ে’ গানে তাঁদের রসায়নও ছিল ভালো। এ গান ছাড়াও সিনেমার আরও কয়েকটি রোমান্টিক মুহূর্তে স্লো মোশনের ব্যবহার ছিল যথার্থ।

অ্যাডাম-ইভের আদিম প্রেমের গল্প, কেমন হলো ‘রইদ’

তানজিয়া মিথিলা নিজের গ্ল্যামারাস উপস্থিতি দিয়ে অল্প সময়েও মন্দ করেননি। সুনিধি নায়েকের উপস্থিতিও ছিল খুবই অল্প। তারিক আনাম খান আর রোজী সিদ্দিকীর চরিত্র খুবই ছোট, তাঁদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। আগুনের বন্ধু আসলাম চরিত্রে কাজী সাবিরও মন্দ করেননি। সিনেমাজুড়েই দুই বন্ধুর ভালোবাসা, ঝগড়া, খুনসুটিতে মজা পেয়েছেন দর্শক। একপর্যায়ে আসলামকে দেখে ‘কানকাটা আসলাম’-এর কথা মনে পড়ে। কেন? সেটা বলে দিলে তো আর মজা থাকল না।

এবার আসা যাক গানের প্রসঙ্গে। ‘রকস্টার’-এ গান রয়েছে ১০টি। বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া আছে রাজীব হাসান, হাসান রোবায়েত ও অংকনের লেখা গান। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব। এর মধ্যে মুক্তি পাওয়া ‘পিরিতি’, ‘আমাকে উড়িয়ে দাও’, ‘আমি যাব হারিয়ে’ আর ‘বেশ কিছুদিন’ মুক্তি পেয়েছে। চারটি চার ধরনের গান। কোনোটি আধ্যাত্মিক, কোনোটিতে দেখা গেছে এক সংগ্রামী শিল্পীর গল্প, কোনোটি আবার পুরোপুরি রোমান্টিক, আবার কোনোটিতে ফুটে উঠেছে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা।

‘রকস্টার’–এর পোস্টারে শাকিব খান ও সাবিলা নূর। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে
‘রকস্টার’–এর পোস্টারে শাকিব খান ও সাবিলা নূর। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে

তবে সিনেমাটিতে সংগীতশিল্পী হিসেবে আগুনের উত্থান আর পতন পুরোপুরি বিকশিত হয়নি; বরং বারবার তাঁর প্রেমের সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। একের পর এক গান বেজে গেছে ঠিকই, কিন্তু সব কটির সঙ্গে একাত্ম হওয়া মুশকিল। শুধু গান নয়, গল্প কিংবা নায়ক-নায়িকার পরিবার, তাদের সম্পর্কের রসায়নের সঙ্গে সব সময় জুড়ে যাওয়া কঠিন ছিল। সিনেমায় বেশ কিছু চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা ঠিক কী, তা বোঝা যাচ্ছিল না। কখনো আবার অতি আবহসংগীতের জন্য সংলাপ বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কিছু দৃশ্য অতি দীর্ঘ, সম্পাদক আনিস মাসুদের আরও ভালোভাবে দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করার সুযোগ ছিল।

প্রথমার্ধে নির্মাতা একের পর এক ঘটনা দেখিয়ে গেলেও সিনেমার প্রধান চরিত্র আগুন কীভাবে এতটা জনপ্রিয়তা পেলেন, সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গল্প এগিয়েছে বেশ সাবলীল। অতীতের ঘটনাগুলো ভালোভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। তবে এখানেও পরিচালক, সম্পাদক—দুজনেরই আরও ভালো করার সুযোগ ছিল।
তবে প্রথম সিনেমাতেই ভিন্নধর্মী গল্প বেছে নিয়েছেন আজমান রুশো, চেয়েছেন নতুন এক শাকিব খানকে হাজির করতে। তাঁর সেই ইচ্ছাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খান
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খান
ছবি : শাকিব খানের ইনস্টাগ্রাম থেকে


Post a Comment

Previous Post Next Post