আজকের বাংলাদেশের প্রধান খবর (১১ জুন ২০২৬
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জাতীয় বাজেট FY27
সরকার প্রায় ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মাথাপিছু আয়ও ৩,০০০ ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ওয়ানডে
আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ
সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য তদন্তে নতুন পদক্ষেপ
আদালত জনপ্রিয় অভিনেতা
এর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে, যা ২৯ বছর পর মামলার তদন্তে নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম কমেছে
জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে দেশে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬,৫০০ টাকার বেশি কমানো হয়েছে।
উনেস্কো পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ভাসমান স্কুল
বাংলাদেশের উদ্ভাবনী ভাসমান স্কুল প্রকল্প আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ইউনেস্কোর সাক্ষরতা পুরস্কার অর্জন করেছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকারইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার
দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। প্রস্তাবিত এই বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম বাজেট।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।
এবারের বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ থাকছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে, আর ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণ থেকে। চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা বাবদ আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিশাল ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একাই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হবে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করায় এসব পণ্যের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি করা কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী ও এমএস রডের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্পকে উৎসাহ দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ শিল্পের বিদ্যমান কর সুবিধাও বহাল থাকবে। এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ কমাতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা। প্রথম ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত যোদ্ধাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ও রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। তবে রেকর্ড রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিপুল বাজেট ঘাটতি সামাল দেওয়াই আগামী অর্থবছরে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ৮৯,৩৮০ কোটি টাকা, নেই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি বরাদ্দবেতন-ভাতা। ছবি: কোলাজ ইত্তেফাক
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এ খাতে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়নি।
এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার পরিমাণ ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বা মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত পে কমিশন যে বেতন কাঠামো সুপারিশ করেছিল, তা হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে না।
ওই কমিশনের সুপারিশ করা রিপোর্ট পরযালোচনা করতে সরকার সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখন সুপারিশ জমা দেয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সচিব কমিটি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো রিভাইজ করে বেতন বৃদ্ধির হার কমিয়ে সুপারিশ করতে পারেন। তবে সরকার জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে চাইলে বাজেটে অর্থের কোনো সংকট হবে না।
বিভিন্ন খাতে থাকা থোক বরাদ্দ এবং অপ্রত্যাশিতখাতে থাকা বরাদ্দের অর্থ থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য বিভিন্ন খাতে থোক বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফুটবলের ‘বিশ্বযুদ্ধ’ শুরুগত চারটা বছর ধরে গোটা পৃথিবী দেখছে, কোথাও না কোথাও যুদ্ধ চলছে। এমনও হয়েছে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার খবরটা সকালে ঘুম ভাঙার আগেই পালটে গেছে, আবার যুদ্ধ শুরু। এভাবেই পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষকে যুদ্ধ শব্দটা শুনতে শুনতে যুদ্ধ আলোচনায় বসবাস করতে হচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবলেও যুদ্ধ ঢুকে গেছে। এই আসরে যুদ্ধ আলোচনায় ঢুকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। যোগ্যতার বাছাইয়ে ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও খেলছে, ভিন্ন গ্রুপে। এই দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কম। তারপরও দুই দেশের রাষ্ট্রীয় নেতাদের মধ্যে কথার পালটা কথা থেমে না থাকলেও কান দেওয়ার সময় নেই ফুটবলের। সবাই ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে চোখ রাখছেন। তাদের কাছে এটাই আসল যুদ্ধ এখন সবার মগজে বিশ্বকাপ।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো আয়োজন করছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ফুটবল। এবারই প্রথম ৪৮ দেশ নিয়ে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ।
আজ মেক্সিকো শহরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এখানেই রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে ৯০ মিনিটের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রয়েছে। মেক্সিতো তাদের ঐতিহ্য তুলে ধরবে। তবে এই শহরে এখন চলছে আন্দোলন চলছে। বিশ্বকাপ ঘিরে নানা সংগঠন আন্দোলনে নেমে বলছে তারা ফুটবল মাঠে গড়াতে দেবে না, যদি দাবি পূরণ না হয়।
অলিম্পিক গেমস যেমন উত্সব, বিশ্বকাপকে ঘিরে অন্যরা উত্সব করলেও আসলে এটি বিশ্ব ফুটবলের যুদ্ধ। ম্যাচ ঘিরে রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দিন মজুরও মেসি, নেইমার, রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে কথার যুদ্ধ করেন। পাণ্ডিত্য দেখান।
বিশ্বকাপ ফুটবলে জাতপাত নেই। কোনো ধর্ম-বর্ণ নেই। সবার ভাষা একটাই ‘ফুটবল’। নানা প্রান্তের মানুষ এক জায়গায় আসেন, নানান দেশের ফুটবলাররা এক মঞ্চে লড়াই করতে আসেন। কিন্তু তাদের মধ্যে থাকে না কোনো ভেদাভেদ।
শেষবার ৮৬ বিশ্বকাপ মেক্সিকোতে এবং ৯৪ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার তিন দেশ আয়োজন করলেও বিশ্বকাপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের। ফাইনালসহ ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১১টি যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকোতে দুটি, কানাডার ভ্যাংকুভার, টরন্টোতে তিনটি। তাই বিশ্বকাপের মূল আয়োজনের মালিক বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রকেই। তারাই সব আকর্ষণীয় খেলা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বকাপের আর্থিক লাভের সুযোগটা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
সবার নজর থাকবে মেসি, রোনালদো এবং নেইমারের দিকে। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, চতুর্থ ট্রফির জন্য মেসির আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে। বয়স ৪০ হওয়ার পরও মেসি এখনো তরতাজা। তবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে তারুণ্যের কাছে যতটা না টিকবেন তার চেয়ে বেশি টিকবেন তার মেধার লড়াইয়ে। কীভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ জিততে হয় সেই মন্ত্র জানা আছে ফুটবলের জাদুকর মেসির। আরো পর্তুগিজ তারকা রোনালদোর কাছে বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে যদি এবার তার দেশ জিততে না পারে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের আলোচনায় বেশি। ইনজুরি কাটিয়ে কীভাবে তার দেশকে ষষ্ঠ ট্রফি এনে দেবেন সেটা সময় বলে দেবে। ফরাসি তারকা এমবাপের কথা সবার জানা। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ২-০ তে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপে। চিতাবাঘের মতো ক্ষীপ্রগতির এমবাপে আরেকবার ছোঁ মারতে প্রস্তুত। মেসি-রোনালদোর মতো তারকা বিশ্বকাপ মঞ্চ ছেড়ে দিলে নতুন কোনো তারকা সেই জায়গায় আসন নিতে পারবেন কি না সেটা বলা কঠিন। তবে নওয়ের ফরোয়ার্ড আর্লিংল হালান্ড, নতুন এসেছেন বিশ্বকাপে। নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে চেনাতে এসেছেন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল তরুণ এক কিশোর। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কতটা সফল হন সেটা দেখার অপেক্ষা করতে হবে। অনেক ঘটনার সাক্ষী হবে এবারের বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক দেশের দর্শক টিকিট কিনেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এমনকি ফিফার খেলা পরিচালনা করতে যাওয়া সোমালিয়ার রেফারিকে মায়ামি বিমানবন্দর হতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেক সাংবাদিক ভিসা পাননি। কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ইরানি ফুটবলারকে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরাম্যানকে বলা হয়েছে গোব্যাক।
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে মারাদানোর কলঙ্কের ছাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফুটবল ক্যারিয়ারের সর্বনাশ হয়েছিল। এই যুক্তরাষ্ট্রে খেলে কলম্বিয়ান ফুটবলার এসকেবার নিজের ভুলে নিজেদের জালে গোল হয়েছিল। পরে নিজ দেশে ফিরে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। এবার নতুন আদলে প্রথম বিশ্বকাপ। ১৯ জুলাই ফাইনালের পর সব ছাপিয়ে আবার সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠবে সেটাই সবার প্রত্যাশা।
Post a Comment