আজকের বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর (১২ মার্চ ২০২৬)

 

আজকের বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর (১২ মার্চ ২০২৬)&nbsp/span>

১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

আজ বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে

এটি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুরু।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বহুল LNG কিনছে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে LNG গ্যাস কিনছে, যার দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি।

বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 বাংলাদেশ–ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য চুক্তি এগোচ্ছে

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া Preferential Trade Agreement (PTA) দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আলোচনা জোরদার করছে।

এই চুক্তি হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে

 বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদার

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে

দুই দেশ ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়াতে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে

তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

 ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

ঢাকার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে

বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা আছে কি না, তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র
/h1>


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ তদন্ত করা হবে।

তদন্তে যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, তা হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।

বাংলাদেশসহ আরও যে ১৫টি দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত করা হবে, সেই দেশগুলো হলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।

বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, অন্য দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজের শিল্প সক্ষমতা বিনষ্ট হতে দেবে না। অর্থাৎ এমন পরিস্থিতি তারা আর মেনে নেবে না, যেখানে অন্য দেশগুলো তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঠেলে দেবে। তাঁর মতে, এ তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিল্প খাত পুনরুজ্জীবন নীতির অংশ। এর লক্ষ্য হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদন খাতে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি করা।

গ্রিয়ার আরও বলেন, অনেক দেশের উৎপাদন সক্ষমতা তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় উৎপাদন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে। সে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হয়। এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পুনঃ শিল্পায়নের নীতি ব্যাহত হচ্ছে।

তদন্তপ্রক্রিয়া

৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। বাণিজ্য আইনের ৩০২(খ) ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ৩০১ ধারাবলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারে।

তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেশের সরকারগুলোর কাছে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

এ তদন্ত নিয়ে ১৭ মার্চ থেকে মতামত দেওয়া যাবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত, শুনানিতে অংশগ্রহণের আবেদন ও সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। আগামী ৫ মে এ বিষয়ে জন শুনানি শুরু হবে।

ইরান সংকটের যে তিন পরিণতি হতে পারে


তেহরানের উত্তর–পূর্বের আকদাসিয়েহ তেল ডিপোতে গত রোববার হামলার পর রাতভর আগুন জ্বলতে ও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ৮ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ সময়ে সময়ে নতুন মোড় নিচ্ছে। এ কারণে এই সংকট সরকার, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষদের জন্য ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এখন অনেক কিছুই নির্ভর করছে সেসব নেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর, যাঁরা অনেক বেশি অনিশ্চিত আচরণ করেন।

এই নেতাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এখন সম্ভবত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও রয়েছেন। মোজতবা খামেনি সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি এবং তিনি পরীক্ষিত নেতাও নন।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এ যুদ্ধকে ‘স্বল্পকালীন অভিযান’ বলে উল্লেখ করছেন, যা ‘শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। আবার তিনি এ–ও বলেছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা অন্য কোনো মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ‘দীর্ঘ সময়ের’ জন্য না হারাবে, ততক্ষণ এই যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত হবে না।

তাহলে এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে কোনো সংকটের সময় সিএনএন প্রায়ই মার্কিন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সম্ভাব্য সমাপ্তির তিনটি দৃশ্যপট বা মডেল তৈরি করে—সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি (বেস কেস), সেরা সম্ভাবনা (বেস্ট কেস) এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি (ওর্স্ট কেস)। সরকারি তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণটি এমন দাঁড়াতে পারে:

১. সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট (৬০%): ইরানকে কোণঠাসা করা—নব্বইয়ের দশকের ইরাকের মতো

এই দৃশ্যপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনাবাহিনীকে ইরানের শক্তি প্রদর্শন বা প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা দুর্বল করার তাঁর নির্দেশিত মিশন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সময় দেবেন। এর মানে দাঁড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কাগুলো যথেষ্ট পরিমাণে সামলে রাখতে পারবে এবং প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্দেশিত মিশনের প্রতি অটল থাকবেন।

এমন পরিস্থিতিতে ধরে নেওয়া হচ্ছে, এ মাসের শেষ নাগাদ ইরানের শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো অক্ষত থাকবে।

এই সময়ে তীব্র সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, অভিযান তার নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে। কিন্তু তেহরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তনের নিশ্চয়তা থাকবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
ছবি: রয়টার্স

এরপর দেশটির নতুন সরকার যতক্ষণ না এবং যদি না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে সম্মত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল থাকবে। উভয় কর্মসূচির ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে, যা অব্যাহত থাকবে।

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং সম্ভাব্য অন্য অংশীদারদের সামরিক উড়োজাহাজ সীমিত ঝুঁকি নিয়ে ইরানের আকাশে টহল দেবে। তেহরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালুর চেষ্টা করে, তবে যখন ইচ্ছা সেখানে হামলা চালানো যাবে, যা মূলত তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখবে।

আগামী কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত এই ‘বেস কেস’ বা সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপটটি হতে পারে নব্বইয়ের দশকের ইরাকের মতো— দুর্বল, কোণঠাসা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় মাথার ওপর সদা সতর্ক মার্কিন পাইলট।

এই পরিস্থিতি ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) নিশ্চয়তা দেবে না। তবে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে আরও বিক্ষোভ এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাসনযন্ত্রের ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন

২. এখনকার চেয়ে আরও শক্তিশালী ইরান (৩০%)

এই দৃশ্যপটটি হতে পারে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে যদি সামরিক বাহিনী তাদের কাজ পুরোপুরি শেষ করার আগেভাগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে জয় ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান আবার নিজের শক্তি কাঠামো পুনর্গঠন করবে—আঘাতে জর্জরিত হয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং আবার সবকিছু শুরু করার মতো যথেষ্ট সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আরও কমে যাবে। কারণ, উপসাগরীয় দেশগুলো সব সময় এমন এক ইরানের হামলার হুমকির মুখে থাকবে, যার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। তেহরান সেগুলো ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, সেই প্রমাণ তারা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে পারে। হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা উপসাগরীয় অংশীদারদের প্রতিরক্ষায় তাদের আরও মার্কিন সহায়তার প্রয়োজন পড়বে। অংশীদারদের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সামর্থ্য শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই সামরিক অভিযান শেষ করতে হবে।

নতুন ভারসাম্য স্থাপনের আগে এই অঞ্চলে ব্যবসা করার খরচ দ্রুত বেড়ে যাবে। জাহাজে পণ্য পরিবহন বিমার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বিনিয়োগে ঝুঁকি বৃদ্ধি ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হবে। আর এই নতুন ভারসাম্য তৈরির ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী এক ইরানকে মাথায় রাখতে হবে, যেখানে ক্ষমতা কাঠামোয় কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়বে।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি
ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার বলেছিলেন, কোনো সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কেরই যুদ্ধের সম্ভাব্য সব পরিণতি ‘নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে কঠোরভাবে’ বিশ্লেষণ না করে চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তা অপ্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারে এবং পরিকল্পনার বিপরীত ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, সেটা ইরান যুদ্ধ নিয়ে যেকোনো পূর্বাভাসেই বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো প্রশাসনের সময়ই এটা হতো। ট্রাম্প প্রশাসন এই অর্থনৈতিক ধাক্কার মধ্যেও নিজের সামরিক অভিযান শেষ করার দৃঢ় সংকল্প দেখাচ্ছে, যেটা সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপটে বলা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে বিপরীত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

যদি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কাজ শেষ করার আগেই কৌশল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

এই যুদ্ধ শুরু করার যে যুক্তিই থাকুক না কেন, অভিযান তাড়াহুড়ো করে শেষ করলে তা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও সাহসী করে তুলতে পারে। এতে ওই অঞ্চল ও বিশ্বব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

৩. নতুন ইরান ও নতুন মধ্যপ্রাচ্য (১০%)

এই দৃশ্যপট হতে পারে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় আঘাত হানা, সরকারকে দুর্বল করে দেওয়া, দেশটির বিরোধীদের মনোবল বাড়ানো, যাতে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের মাধ্যমে বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের দাবি তোলে।

গত জানুয়ারি মাসের সহিংস দমন–পীড়নে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই ঘটনা না ঘটলে এই পরিস্থিতির (সরকার পরিবর্তনের) ভালো সম্ভাবনা থাকত। নিকট ভবিষ্যতে ইরানিরা তখনই বিপুল সংখ্যায় রাজপথে ফিরে আসতে পারে, যদি তেহরানের নিপীড়ক বাহিনী হিসেবে পরিচিত বাসিজ মিলিশিয়া এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) উল্লেখযোগ্যভাবে এবং দৃশ্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে তা করা কঠিন।

ইতিহাসে এর আগেও দেখা গেছে, সাধারণত বাইরে থেকে সামরিক চাপে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতন সম্ভব হয় না, যদি না অভ্যন্তরীণভাবে বিরোধীদের সংগঠিত ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে না ওঠে।

যদিও এই অভিযান মূলত সীমান্তের বাইরে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে সীমিত করার লক্ষ্যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য এটা পর্যাপ্ত নয়। আর এটা সম্ভব করতে হলে মার্কিন স্থলবাহিনী বা সংগঠিত বিরোধী শক্তি প্রয়োজন হবে।
আর এই দুটির কোনোটিই এই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় সম্ভবত নেই। এ দুটি ছাড়া নিকট ভবিষ্যতে তেহরানে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুবই কম।

আরও পড়ুন

এই দৃশ্যপটে তিনটি সম্ভাবনার একটিকে অন্যটির বিরোধী মনে করা হচ্ছে না। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের নামমাত্র প্রধান হয়ে থাকতে পারেন। তিনি ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন কি না তা বোঝা যাচ্ছে না কিংবা তিনি নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সুযোগও সৃষ্টি করতে পারেন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ১৯৭৯ সালে পারিবারিক শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু এখন মোজতবা খামেনি প্রাথমিকভাবে তাঁর প্রয়াত বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ পদের দাবিদার হয়েছেন।

সে ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে, দীর্ঘ মেয়াদে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তখন ইরানি জনগণই  ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। শেষ পর্যন্ত এই শাসনব্যবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসবে।



Post a Comment

Previous Post Next Post