চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

 

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার ,

সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস ৩০ দিনে শেষ হচ্ছে। আর আগামী শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন সৌদিবাসী।

আজ বুধবার রাতে সৌদির চাঁদ দেখার খবর প্রকাশ করেছে

খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। অর্থাৎ দেশটিতে ২০ মার্চ শুক্রবার হবে ঈদুল ফিতর।

আরবি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, রমজান নবম মাস ও শাওয়াল দশম মাস। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

এর আগে, ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করে তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া।

তুর্কি সরকার জানায়, শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার তুরস্ক ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনার যে ইঙ্গিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে এ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দেশটিতে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা না থাকায় আগামী শনিবার সেখানে ঈদ উদযাপিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আর অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল’ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

ঈদ কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

স্বজনের কাছে ফিরছে সবাই

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিদায় নিতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান। এরপরই চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদের তারিখ নির্ধারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলছে, সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

ওইদিন বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে টেলিফোনে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এ বছর বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে রোজা হবে ২৯টি আর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শুক্রবার।

আর বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রোজাই পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে

রাজধানী থেকে গতকাল ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই বরাবরের মতো ঝুঁকি নিয়ে ওঠে মানুষ। টঙ্গী স্টেশন থেকে তোলা ছবি -জয়ীতা রায়

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। কয়েক দিন ধরেই চলছে ঈদযাত্রা। শেষ সময়ে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে রয়েছে মানুষের ভিড়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়ছে ট্রেনগুলো। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-চন্দ্রা সড়কে যানজট রয়েছে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এ ছাড়া চন্দ্রা-বগুড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ।

ট্রেনে নেই শিডিউল বিপর্যয় : কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে ভিড় সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। নির্ধারিত সময়েই ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ।

গতকাল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, টিকিট কাউন্টারের সামনে ভিড়, প্ল্যাটফর্মে পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা; সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর কিন্তু ব্যস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এসে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়া ট্রেনে উঠতে পারেন। জানা গেছে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের পর জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস, নকশিকাঁথা, অগ্নিবীণা, রাজশাহী কমিউটার, নারায়ণগঞ্জ কমিউটার, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু ট্রেন একের পর এক ঢাকা ছেড়ে গেছে। সিলেটগামী যাত্রী তাসনিম শুভ্রা বলেন, ঈদের সময় ট্রেন মিস হওয়ার ভয় থাকে। তাই আগেই চলে এসেছি। ভিড় অনেক বেশি, তবে পরিবেশ ভালো লাগছে। আশা করি কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে যেতে পারব। খুলনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, শেষ সময়ে টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখনো আগেভাগেই চলে আসছি। স্টেশনে ভিড় থাকলেও সবাই মোটামুটি শৃঙ্খলার মধ্যে আছে। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে ঈদযাত্রা উপভোগ করছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

টঙ্গী-গাজীপুর-চন্দ্রা সড়কে যানজট : ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথ চন্দ্রায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ও যানবাহন বাড়ায় জটলা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৮ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রা বাস টার্মিনালের শেষ প্রান্ত খাড়াজোড়া এলাকায় সড়কের ওপর যানবাহন থামিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে পরিবহনগুলো। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকা থেকে চন্দ্রার উড়ালসড়ক পর্যন্ত মোট ৮ কিলোমিটার অংশে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। নাবিল পরিবহন বাসের চালক মুস্তফা মিয়া বলেন, পুরো সড়কে কোনো যানজট নেই। শুধু চন্দ্রা আসতে গেলেই জ্যাম ঠেলতে হয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করে তাহলে অনেকটা শৃঙ্খলার সঙ্গে বাসগুলো যাত্রী উঠাতে পারে। তাহলে আর এই জ্যাম থাকবে না।

কয়েকজন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের অন্যান্য স্থান ফাঁকা থাকলেও চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছাতে গেলেই যানজটে পড়তে হচ্ছে তাদের। এতে অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে ভোগান্তি। একই অবস্থা গাবতলী থেকে চন্দ্রা সড়কেও। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কটিতে রয়েছে যানজট। ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।মিনি ট্রাকে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে মানুষ  -রোহেত রাজীব

মিনি ট্রাকে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে মানুষ  

নির্বিঘ্নে চলছে চন্দ্রা-বগুড়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ভোগান্তিহীন পারাপার হচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। দেশের লাইফলাইনখ্যাত এই মহাসড়ক অন্যান্য বছর ভোগান্তির আরেক নাম হলেও এবার ঈদে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বুধবার সকাল থেকেই গাড়ির চাপ রয়েছে। তবে কোথাও যানজটের চিত্র দেখা যায়নি। কিছু কিছু এলাকায় ধীরগতি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে জানা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে রিজিয়নের কুমিল্লার দাউদকান্দি সেতু থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরোটা অংশই ভোগান্তিহীন। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান বলেন, মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। গাড়ির চাপ কিছুটা বেশি। তবে মহাসড়কে কোনো ভোগান্তি নেই। আশা করছি ঈদযাত্রার পুরোটা সময় আমরা মানুষকে একটি আনন্দঘন যাত্রা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এদিকে গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো যানজট নেই।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে। যাত্রীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে ঢাকার বাইরে যাতায়াত করতে পারছেন এবং কোথাও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া যায়নি।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করলেন জেডি ভ্যান্স
 জেডি ভ্যান্স

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বুধবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় তিনি বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ছে, আমরা তা জানি। আমরা জানি এর কারণে মানুষ কষ্টে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি, যা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে।’ 

তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে তিনি কোনো ঘোষণা দিতে চান না।

হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই জানিয়ে বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হতো।

ইরান বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা। তবে হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। পার হতে চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে। এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ আগের তুলনায় ৪০ ডলারের বেশি।

জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এগুলো সব ন্যাটোভুক্ত দেশ।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানির অধিকাংশ আসে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।

প্রণালিটি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্বাভাবিকভাবে চীন তাতে সাড়া দেয়নি। মিত্র ও অন্যান্যদের সাড়া না পেয়ে বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের এসব হামলা ‘ব্ল্যাকমেইলের শামিল’: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ

দখলদার ইসরায়েল ইরানের সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ডে হামলার পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেয় ইরান। এ অনুযায়ী তারা হামলা চালিয়েছেও। সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ ইরানের এসব হামলাকে ‘ব্ল্যাকমেইলের শামিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা নিকৃষ্ট ব্ল্যাকমেইল চেষ্টার শামিল।”

সৌদির মন্ত্রী যখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তখন ইরানের রাজধানী রিয়াদে হামলা চালায় ইরান। প্রিন্স ফয়সাল বলেছেন, ইরান এই বৈঠকের সময় হামলা চালিয়ে বার্তা দিতে চেয়েছে তারা থামবে না। কিন্তু এসব বার্তা কাজে দেবে না।

তিনি বলেন, “আমার জন্য, এটি স্পষ্ট যে বৈঠক চলার সময় হামলার অর্থ হলো, যারা বৈঠকে ছিলেন তাদের ভয় দেখানো। তারা বার্তা দিতে চেয়েছে ইরান থামবে না”

“আমি যা বলতে পারি তা হলো আমরা কেউ ভয় পাইনি। আমরা ভাবতে পারি না, ইরান যদি এমন আচরণ করতে থাকে তাহলে ইরান আমাদের বৈধ কোনো সহযোগী হতে পারে। ইরানের ওপর যে অল্প বিশ্বাস ছিল তাও পুরোপুরি ভেঙে গেছে।” সূত্র: আলজাজিরা

Post a Comment

Previous Post Next Post