আজকের বাংলাদেশ সংবাদ (৬ মার্চ ২০২৬)
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছে।
বিরোধী দলগুলো নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাল, ডাল, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও বেশি।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮% এর বেশি রয়েছে।
সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে। জ্বালানি ও আমদানি খরচ বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুবাই থেকে ২৭ জন বিমান ক্রু দেশে ফিরেছেন
দুবাইয়ে আটকে পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭ জন ক্রুকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। তারা একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে আসেন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
বিরোধী দলের অভিযোগ: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনীতিকরণ
বিরোধী নেতা নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি
২০২৬ সালের শুরুতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও উঁচু অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫৮% হয়েছে বলে অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ঘটনায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আন্তর্জাতিক অনলাইন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।
তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়তে পারে।
আড়াই শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক গম্বুজের খানবাড়ি মসজিদ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের প্রায় আড়াই শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক গম্বুজবিশিষ্ট খানবাড়ি মসজিদএক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির ভেতর ও বাইরে কারুকার্যময়। দেয়ালের পুরুত্বও প্রায় ৪০ ইঞ্চি। মসজিদের দুপাশে কবরস্থান এবং সামনে–পেছনে রয়েছে পুকুর। মসজিদের ছায়া পুকুরের পানিতে জ্বলজ্বল করে। প্রত্যন্ত গ্রামে নান্দনিক এই মসজিদ টিকে আছে প্রায় আড়াই শ বছর ধরে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে মসজিদটিকে টিকিয়ে রাখতে চান।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জোরবাড়িয়া গ্রামে দেখা মেলে এক গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন এই মসজিদের। জোরবাড়িয়া পূর্বভাটিপাড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ নাম হলেও স্থানীয়দের কাছে খানবাড়ি মসজিদ নামেই এটি পরিচিত। ঐতিহ্যের ধারক এ স্থাপনা ১২০০ হিজরিতে নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী ও দানশীল ব্যক্তি হায়াত খান। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ একনজর দেখতে ছুটে আসেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। মসজিদের পাশেই রয়েছে ‘বিবিঘর’ নামে পরিচিত একটি মানতের ঘর। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় অসুস্থতার নিরাময়ের আশায় এখানে মানত করা হতো, যদিও বর্তমানে এ প্রথা প্রায় বিলুপ্ত।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক গম্বুজের প্রাচীন এই মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পেছনে ৫২ শতাংশ জমির একটি পুকুর এবং সামনে শানবাঁধানো ঘাটসহ প্রায় এক একর আয়তনের আরেকটি পুকুর রয়েছে। মসজিদের দুই পাশে রয়েছে কবরস্থান; এলাকার কেউ মারা গেলে এখানেই দাফন করা হয়। মৃত্যুর আগে হায়াত খান মসজিদের নামে সাত একর জমি লিখে দিয়ে যান। ওই জমির আয় থেকেই বর্তমানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। মসজিদটির চার কোণে চারটি পিলার রয়েছে, যার উপরিভাগ কলসি আকৃতির কারুকাজে অলংকৃত। চৌকো কাঠামোর ওপর ছাদজুড়ে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ। কথিত রয়েছে ফ্রান্স থেকে কারিগর এনে করা হয় এই মসজিদ।
মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই মসজিদ যখন করা হয়, তখন তো সিমেন্ট ছিল না। চুন-সুরকি ও ইট দিয়ে এই মসজিদ করা হয়। মানুষের কাছে শুনেছি ফ্রান্স থেকে লোক এনে এই মসজিদটি করা হয়। যিনি এই মসজিদ করেছেন, তিনি অনেক সম্পদশালী ছিলেন। তিনি মসজিদের জন্য সাত একর জমি দান করে গেছেন। এই মসজিদে অনেক দূরদূরান্তের লোক আসে। এখন পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ হলেও আমাদের এই মসজিদে এমনিই লোক ভরপুর থাকে।’
আসরের নামাজ পড়ে বের হওয়া মো. মোনায়েম খান বলেন, এই মসজিদ অনেক পুরোনো। এই মসজিদের কারুকার্য ভেঙে গেলে সেগুলো মেরামত করা হয়েছে গেল বছর। এই মসজিদটি ঐতিহ্যের জন্য এখনো চালু রাখা হয়েছে। এই মসজিদে নামাজ পড়তে খুব ভালো লাগে। গরমের দিন ঠান্ডা ও শীতে গরম অনুভূত হয়। প্রকৌশলীরা বলে গেছেন, আরও এক থেকে দেড় শ গেলেও মসজিদের কিছু হবে না।
প্রাচীন মসজিদটির ইতিহাস বর্ণনা করেন জোরবাড়িয়া পূর্বভাটিপাড়া খানবাড়ি জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম খান। তিনি বলেন, এই মসজিদ ১২০০ হিজরিতে নির্মিত হয়। হায়াত নামের একজন এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তাঁরা (হায়াত খান) তিন ভাই ছিলেন। এর মধ্যে হায়াত খানের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। একটিমাত্র কন্যাসন্তান ছিল। নিজে জমি দান করে তিনি এই মসজিদ করেছেন, মসজিদের দুপাশে গোরস্থান রয়েছে, মসজিদের সামনে পুকুর রয়েছে।
Post a Comment