ডিএমপির অভিযান শিগিগরই রাজধানীতে শীর্ষ চাঁদাবাজ ১৪০ জন

 

ডিএমপির অভিযান শিগিগরই

রাজধানীতে শীর্ষ চাঁদাবাজ ১৪০ জন


ডিএমপির লোগো

রাজধানীতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। চলছে যাচাই-বাছাই। পাশাপাশি অভিযানের ধরন কী হবে তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, অভিযান কোনোভাবেই যেন ব্যর্থ না হয়—সে জন্য আটঘাট বেঁধেই অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডিএমপি সদর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় এই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রথমে ঢাকা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চলবে। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তালিকায় শীর্ষ চাঁদাবাজ ১৪০ জন  রয়েছে। চাঁদাবাজদের তালিকায় সর্বাধিক সংখ্যা কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবীতে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর প্রধানদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তি বার্তা পৌঁছা তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই কর্মকর্তা বলেন, আপাতত মহানগর পুলিশকে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের তালিকা প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রথম পর্যায় বিশেষ বিশেষ এলাকাকে চিহ্নিত করে তালিকা করা হবে।

ডিএমপির একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কাজে জমা দিয়েছেন। ডিসি অফিসে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ডিসিরা তালিকা ডিএমপি সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের একজন ওসি জানিয়েছেন, অপরাধীদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ করে জমা দেওয়ার পর থেকে অপেক্ষা করছি কখন ঊর্ধ্বতন (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আসে। নির্দেশনার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু করা হবে। এজন্য থানার এসআই, এএসআইদের প্রয়োজনীয় ব্রিফ দিয়ে রেখেছেন। তালিকায় যেসব অপরাধীর নাম এসেছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চাঁদাবাজদের উপর।

একজন রেঞ্জ ডিআইজি জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির পুলিশ সদর দপ্তরের লিখিত কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। তবে মৌখিক নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ সুপার, থানার ওসিদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তারা কাজও শুরু করেছেন।

চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী: ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ  দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রথমত, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘নির্মোহ’ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।

জকসু থেকে শিবিরের দুই নেতাকে অব্যাহতির দাবি ছাত্রদল প্যানেলের চার প্রতিনিধির


গন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ঘটনায় জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিক্ষা সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংগঠনকে ব্যবহার করে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চার প্রতিনিধি। তাঁরা ওই দুই নেতার পদ থেকে অব্যাহতি দাবি করেছেন।

শনিবার জকসুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব, পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান সাম্য।

অভিযুক্ত ওই দুই নেতা হলেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।

বিবৃতিতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ওই চার প্রতিনিধি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাকে ন্যায্যতা দিতে শিবিরের এই দুই নেতা জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতি দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা সম্পর্কে জকসুর অন্য প্রতিনিধিরা অবগত নন। জকসুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই অপচেষ্টার মাধ্যমে তাঁরা পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

বিবৃতিতে তাঁরা অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে জকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান।

জকসুর এই চার নেতা আরও বলেন, ‘জকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনের স্বার্থে এটি কাজ করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি জানতে সমিতির কার্যালয়ে যান। তখন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বসে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের জকসু নেতারা ও তাঁদের মতাদর্শী সাংবাদিকেরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় জকসুর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন জকসুর পদে থাকা ছাত্রশিবিরের দুই নেতা। তাঁরা দাবি করেন, তাঁরা হামলা করেননি, বরং হামলা থেকে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছেন। একই দিন জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত অপর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জিএস ও শিক্ষা সম্পাদককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’।

তবে এজিএসের ওই বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে শনিবার পাল্টাবিবৃতি দিলেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চার নেতা। তাঁরা বলছেন, হামলাকারীরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে জকসুর নাম ব্যবহার করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপমানজনক।

রাজশাহীতে কলেজশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ, ছাত্রদলের দুই নেতা কারাগারে
আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আবু সুফিয়ান

রাজশাহীতে এক কলেজশিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ শনিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৪ মার্চ মারধরের ঘটনার পর ৫ মার্চ থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষক।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জুয়েল রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেপ্তার দুজন হলেন শাহ মখদুম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ ওরফে শিহাব ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ওরফে চন্দন।

শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে শাহ মখদুম কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তাঁরা দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বামামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বেশ কয়েক মাস ধরে দুই ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আবু সুফিয়ান শিক্ষক আসাদুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাঁরা তাঁকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে ৪ মার্চ নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় তাঁর বাসার সামনে একা পেয়ে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁকে আবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।শিক্ষকের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দুই ছাত্রদল নেতা তাঁকে চড়থাপ্পড় ও মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা মারুফ ও সুফিয়ান। সেখানে তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের সমর্থক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলটির পক্ষে কাজ করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদা দাবি ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।     

জাতীয় ও রাজনৈতিক খবর

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারিভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) সভাপতির পদে সমর্থন চাইবে।

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু। ১৬ মার্চ থেকে প্রচারণা জোরদার করবে প্রার্থীরা।

সমাজ ও বিশেষ দিবস

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি। নারী শ্রম ও গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।


 খেলাধুলা

পাকিস্তানের বিপক্ষে ODI সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

ম্যাচ: ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ

ভেন্যু: মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

 অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য


দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। 

atOptions = { 'key' : '4353ab11dec5499aed278da14794b77d', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

style="box-sizing: border-box; color: rgba(0, 0, 0, 0.87); font-size: 42.0834px; line-height: 1.4; margin: 0px; padding: 0px 0px 16.0002px;">দুর্বল ইরান আমেরিকার জন্যই বুমেরাং হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ। তেহরান, ইরান, ২২ জুন ২০২৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানকে যাঁরা সমর্থন করেন, তাঁরা একটি সরল যুক্তি সামনে আনেন। সেটি হলো—তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দুর্বল করা, নৌবাহিনীকে অক্ষম করে দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা কমিয়ে দিলে মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হবে।

এই যুক্তির ভিত্তি যে অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো—দুর্বল ইরান মানেই আরও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি যদি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এমন কিছু শক্তি মুক্ত হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক হবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেসের কর্মীদের দেওয়া ব্রিফিং অনুযায়ী, এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়নি যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবু সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে—এই বিশ্বাসে যে ইরানকে দুর্বল করা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বার্থেই কাজে দেবে। কিন্তু যদি এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে তার ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্যও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—অভ্যন্তরীণ ভাঙন। ইরান একটি বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ। পারসিয়ানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আজেরি, কুর্দি, আরব এবং বালুচ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এই গোষ্ঠীগুলোর কিছু কিছু অঞ্চলে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিদ্রোহের ইতিহাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমে কুর্দি সশস্ত্র কার্যকলাপ এবং দক্ষিণ-পূর্বে দীর্ঘদিনের বালুচ বিদ্রোহ তার উদাহরণ।

এখন পর্যন্ত একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা এই বিভাজনরেখাগুলোকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু যদি রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে এই চাপা উত্তেজনা দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে। তখন পরিস্থিতি এমন এক ভাঙনের দিকে যেতে পারে, যেমনটি সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগত সামরিক চাপ বা শাসনব্যবস্থার পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাস এ ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছিল। তার ফল হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং শেষ পর্যন্ত আইএস-এর উত্থান। ২০১১ সালে লিবিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। সে সংকট আজও শেষ হয়নি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শতাব্দীর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি তৈরি করেছে এবং বিশাল ভূখণ্ডকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। সংঘাতের একপর্যায়ে আইএসআইএস পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে তথাকথিত খিলাফত ঘোষণা করেছিল এবং লাখো মানুষের ওপর শাসন চালিয়েছিল।ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে একাধিক শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে—রক্ষণশীল ধর্মীয় নেটওয়ার্ক, সংস্কারপন্থী রাজনীতিক এবং নিরাপত্তাকাঠামোর প্রভাবশালী অংশ, যেমন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন কোনো একক উত্তরসূরির বিষয় নয়; বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে।

ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। ইরানের জনসংখ্যা ইরাক, লিবিয়া বা সিরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি। তার ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার অনেক সীমান্তে সংঘাতপ্রবণ এলাকা আছে। যদি ইরানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী, জাতিগত মিলিশিয়া বা বিদ্রোহী শক্তি মাথা তোলে, তাহলে দেশটি দ্রুত দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার আরেকটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই অস্থিতিশীলতা শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ইরান পারস্য উপসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছেই। যদি ইরানের উপকূলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া বা নিয়ন্ত্রণহীন নৌবাহিনী সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে তারা সহজেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে, তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে, এমনকি প্রণালি অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংকট দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটে রূপ নিতে পারে।

এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার অভিঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির সর্বত্র পড়বে—পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে মূল্যস্ফীতি পর্যন্ত। অনেক সময় আমেরিকান নীতিনির্ধারকেরা জ্বালানি অস্থিতিশীলতাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে এটি খুব দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়।

কৌশলগত পরিণতিও এখানেই থেমে থাকবে না। বর্তমানে ইরান একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক জোট ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে লেবাননে রয়েছে হিজবুল্লাহ, ইরাকে আছে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনে আছে হুতি গোষ্ঠী। এরা প্রত্যেকে কোনো না কোনো মাত্রায় তেহরানের প্রভাববলয়ে কাজ করে।

কিন্তু যদি ইরানি রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে এই কাঠামোও ভেঙে যেতে পারে। কিছু গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করতে পারে, কেউ কেউ প্রভাব বিস্তারের জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, আবার কেউ কেউ কেন্দ্রীয় সমন্বয় ছাড়াই আরও চরমপন্থী হয়ে উঠতে পারে। তখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। এটি কূটনৈতিক সমাধানকে কঠিন করে তুলবে এবং সামরিক সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিতে পারে।

আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা। কিছু নীতিনির্ধারক মনে করেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বা অপসারিত হলে সেখানে একটি তুলনামূলক উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, শাসন পরিবর্তন খুব কম ক্ষেত্রেই পূর্বনির্ধারিত পথে এগোয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post