আজকের বাংলাদেশের প্রধান খবর (২৩ মে ২০২৬)
পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় অস্ত্রসদৃশ বস্তু বের করা তরুণ কেহামলা–সংঘর্ষের একপর্যায়ে আশিক নামে আকাশি রঙের গেঞ্জি পর তরুণ পকেট থেকে এক বস্তু বের করে উদ্যত হন। পাঞ্জাবি পরা আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেনঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত একদল তরুণকে তাঁকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। এ সময় এক তরুণকে পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু বের করে হামলা করতে উদ্যত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই তরুণের নাম আশিক মণ্ডল। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পাশাপাশি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রদলের দাবি, ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ বের করা ওই তরুণ গুপ্ত সংগঠনের সদস্য। তবে এনসিপি বলছে, আকাশি রঙের গেঞ্জি পরা তরুণ এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক। পকেট থেকে বের করা বস্তুটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়; আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে পাশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গেঞ্জি পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনকে তৎপর দেখা যায়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হন।
ঘটনার পর আকাশি গেঞ্জি পরিহিত এক তরুণকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু পকেট থেকে বের করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার একপর্যায়ে আশিক নামের এক তরুণ পকেট থেকে ওই বস্তুটি বের করে মারতে উদ্যত হন। পাঞ্জাবি পরা আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী একজন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে নামাজ পড়েছেন। তাঁরা মসজিদে থাকাকালে নাসীরুদ্দীন মসজিদে যান। এ সময় আকাশি গেঞ্জি পরা কয়েকজন তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে সংঘর্ষের সময় আকাশি গেঞ্জি পরিহিত ব্যক্তিদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।
কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশিক মণ্ডলের পরিবার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আশিক সক্রিয় কোনো রাজনীতি করতেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁকে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসদৃশ কিছু একটা বের করতে দেখা যায়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, গুপ্ত সংগঠনের সদস্য আশিক অস্ত্র বের করে মহড়া দিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
জানতে চাইলে এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ বলেন, আকাশি গেঞ্জি পরা ছেলেগুলো স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যেটা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল। সেখানে কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত একদল তরুণকে তাঁকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। এ সময় এক তরুণকে পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু বের করে হামলা করতে উদ্যত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই তরুণের নাম আশিক মণ্ডল। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পাশাপাশি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রদলের দাবি, ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ বের করা ওই তরুণ গুপ্ত সংগঠনের সদস্য। তবে এনসিপি বলছে, আকাশি রঙের গেঞ্জি পরা তরুণ এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক। পকেট থেকে বের করা বস্তুটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়; আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে পাশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গেঞ্জি পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনকে তৎপর দেখা যায়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হন।
ঘটনার পর আকাশি গেঞ্জি পরিহিত এক তরুণকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু পকেট থেকে বের করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার একপর্যায়ে আশিক নামের এক তরুণ পকেট থেকে ওই বস্তুটি বের করে মারতে উদ্যত হন। পাঞ্জাবি পরা আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী একজন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে নামাজ পড়েছেন। তাঁরা মসজিদে থাকাকালে নাসীরুদ্দীন মসজিদে যান। এ সময় আকাশি গেঞ্জি পরা কয়েকজন তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে সংঘর্ষের সময় আকাশি গেঞ্জি পরিহিত ব্যক্তিদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।
কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশিক মণ্ডলের পরিবার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আশিক সক্রিয় কোনো রাজনীতি করতেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁকে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসদৃশ কিছু একটা বের করতে দেখা যায়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, গুপ্ত সংগঠনের সদস্য আশিক অস্ত্র বের করে মহড়া দিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
জানতে চাইলে এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ বলেন, আকাশি গেঞ্জি পরা ছেলেগুলো স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যেটা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল। সেখানে কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি।
পর্তুগালে এনসিপি নেতার ওপর ডিম নিক্ষেপ-হামলা, ভিডিও ভাইরাল মো. আকতার হোসেন
র্তুগালের লিসবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকতার হোসেনের ওপর হামলার একটি ভিডিও শনিবার ভোরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি কোন সময়ের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হামলার ঘটনার বিষয়ে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টার দিকে আকতার হোসেনের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আজকে পর্তুগাল এনসিপির দায়িত্বশীলদের সাথে মিটিং ছিল। মিটিং শেষ হওয়ার সাথে সাথে পর্তুগাল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাকে পিছন থেকে অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা করে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পার্কে আকতার দুজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ এক যুবক এসে তাঁর ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে আরও দুই যুবক একই কাজ করেন। বেশ কয়েকবার ডিম নিক্ষেপের পর ওই যুবকেরা আকতারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। পরে আকতার দৌড়ে ওই জায়গা থেকে সরে যান।
পর্তুগালপ্রবাসী কয়েকজন জানান, গত সপ্তাহে পর্তুগালে গিয়েছেন এনসিপি নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার আহ্বায়ক মো. আকতার হোসেন। পর্তুগালের লিসবনে একটি পার্কে তিনি অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আকতার হোসেনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক একটি খুদে বার্তা পাঠান। তবে তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পর্তুগালের ছাত্রলীগ নেতাদেরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনসিপি সিলেট মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাদেক মো. খাইরুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। পর্তুগালে থাকা কিছু ছাত্রলীগ কর্মী অতর্কিতভাবে আকতারের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপি সিলেট জেলার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বরাতে একটা বিবৃতি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এনসিপি সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন সম্প্রতি আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে ব্যক্তিগত সফরে পর্তুগাল গমন করেছেন। গতকাল তাঁর ওপর নিষিদ্ধঘোষিত তথাকথিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ বিবৃতিতে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত ও সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’: সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঠেকাতে যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছে কিউবাকিউবার রাজধানী হাভানায় একটি বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বাড়িটির দেয়ালে টাঙানো পোস্টারে ভেনেজুয়েলার প্রয়াত নেতা হুগো চাভেজ, কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো এবং আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া বিপ্লবী নেতা আর্নেস্তো চে গেভারাকে দেখা যাচ্ছে। ১৯ মে ২০২৬
হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা–যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে।
এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন।
ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।
র্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।
কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড–সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস–সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল–জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।
ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।
একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।
প্রণোদনা তহবিল থেকে কোন খাত কত টাকা পাবে আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছেন
বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কম সুদে এই ঋণ যাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে। শুধু ৫০০ কোটি টাকা সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতে অনুদান হিসেবে যাবে। এতে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন। এবার দেখে নিই, কোন খাতের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কোন খাতের কত কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোন খাতে কত বরাদ্দ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে। এ ক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকগুলোর অলস টাকা এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের মাঝে টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া ১৯ হাজার কোটি টাকা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এতে ২ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির আশা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এই খাতে ৯ লাখ কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ খাতের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এই খাতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এবার প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গে কৃষির কেন্দ্র (হাব) গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, এক লাখ কর্মসংস্থান করা হবে।
এ ছাড়া ১৯ হাজার কোটি টাকা পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি চলমান আছে। তা একীভূত করে তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল দাঁড়িয়েছে ১০টি।
প্রি-শিপমেন্ট ফাইন্যান্স/প্যাকিং ক্রেডিট খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার। কুটির ও ক্ষুদ্র খাতের জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে ২ লাখ মানুষের। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এ খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ১ লাখ।
বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মকাণ্ডের জন্য আনসার ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এতে কর্মসংস্থান হবে এক লাখ মানুষের।
পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতের জন্য। স্টার্টআপদের অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারকেরা পাবেন ২ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে বাড়তি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার। চামড়া ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাত বেশ চাপে আছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। বেশ কিছু টাকা পাচার হয়ে গেছে। আমানতকারীদের আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল।’
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের মতে, উচ্চ সুদহারের কারণে এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ব্যবসা বাড়াননি। উন্নয়নের জন্য এই প্রণোদনা তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটা বিনিয়োগ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো জন্য। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে ঋণের সুযোগ বাড়বে। এই তহবিল যথাযথ বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।
গভর্নর বলেন, এই তহবিলের মাধ্যমে শিল্প খাত পুনর্গঠিত হবে। রপ্তানি বাড়বে ও কৃষি খাতে গতি পাবে। এতে প্রবাসী আয়ও বাড়বে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা: শুধু ‘পাগলাঘণ্টা’ ও অস্ত্রে কি সমাধান মিলবে?রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। ১৫ মে ২০২৬, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল
সম্প্রতি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের ওপর উপর্যুপরি সহিংসতার ঘটনা আমাদের জনস্বাস্থ্য খাতকে চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও কর্মবিরতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দেশের হাসপাতালগুলোতে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ‘পাগলাঘণ্টা’ বা সেন্ট্রাল অ্যালার্ম সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৩ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের টারশিয়ারি কেয়ার হাসপাতালগুলোতে জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত ১২ দশমিক ৩ শতাংশ ডাক্তার শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই রোগীদের আত্মীয়স্বজন দ্বারা এবং সরকারি হাসপাতালে ঘটে (Md. Shahjalal et al., 2023)। ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্মরত ও তরুণ পুরুষ ডাক্তাররা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন এবং অনেকেই কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ বোধ করেন।
এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের জীবন রক্ষা এবং হাসপাতালের তাৎক্ষণিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এই উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে একটি সাময়িক ঢাল হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেবল কিছু আনসার সদস্যের বন্দুকের নল আর সাইরেনের আওয়াজ কি আমাদের চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে স্থায়ী নিরাপত্তা ও নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে?
হাসপাতালে মব সংস্কৃতি এক দিনে তৈরি হয়নি। এটি আমাদের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং আইনের শাসনের অভাবের একটি মারাত্মক বহিঃপ্রকাশ। এই বাস্তবতায় হাসপাতালের করিডরে সশস্ত্র আনসার দাঁড় করিয়ে সাময়িকভাবে আক্রমণ ঠেকানো হয়তো সম্ভব, কিন্তু রোগীর স্বজনদের ভেতরের সেই অবিশ্বাস ও ক্ষোভ দূর করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, হাসপাতালকে দুর্গের রূপ দিলে তা সাধারণ রোগীদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও দূরত্বের জন্ম দেবে, যা চিকিৎসক-রোগীর মধ্যকার আস্থার সম্পর্ককে আরও দুর্বল করে তুলবে।
দেশের প্রচলিত আইনে চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র আইনি কাঠামো নেই। বর্তমানে চিকিৎসকদের ওপর কোনো হামলা হলে তা সাধারণত ১৮৬০ সালের ‘বাংলাদেশ দণ্ডবিধি’র সাধারণ ধারা, যেমন—ধারা ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত করা), ধারা ৩২৫ (গুরুতর আঘাত করা) কিংবা ধারা ৩৫৩ (কর্তব্যরত সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধাদান বা আক্রমণ)-এর অধীন বিচার করা হয়। কিন্তু এই প্রচলিত আইনি কাঠামো ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মধ্যে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা কোনো একক গোষ্ঠী বা পেশার দাবি নয়, এটি দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা সচল রাখার পূর্বশর্ত। একজন চিকিৎসক যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তবে তার পক্ষে রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া অসম্ভব। আনসার, অস্ত্র বা পাগলাঘণ্টা সাময়িক প্রতিরোধ হলেও চূড়ান্ত কোনো সমাধান নয়।
প্রথমত, দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো কেবল ‘সরকারি কর্মচারী’দের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু আমাদের দেশের মোট স্বাস্থ্যসেবার একটি বিশাল অংশ পরিচালিত হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। বেসরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক যখন ডিউটিরত অবস্থায় হামলার শিকার হন, তখন তিনি এই আইনি সুবিধা পান না। ফলে বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক আইনি সুরক্ষার বাইরেই থেকে যান।
দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে চিকিৎসকেরা কেবল শারীরিক হামলার শিকারই হন না; বরং রোগীর স্বজনদের দ্বারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি এবং মানসিক হেনস্তার শিকার হন প্রতিনিয়ত। প্রচলিত আইনে এ ধরনের ‘মৌখিক সহিংসতা’ রোধে তাৎক্ষণিক শাস্তির কোনো জোরালো ও কার্যকর বিধান নেই। উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন’-এর খসড়া তৈরি করা হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
আমরা যদি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রতিবেশী ভারতের দিকে তাকাই, তবে দেখব তারা কেবল লাঠি বা অস্ত্রের ওপর ভরসা করে ডাক্তারদের নিরাপত্তা দেয় না। অনেক দেশেই হাসপাতাল সুরক্ষায় একটি সমন্বিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে। ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় বিশেষ আইন আছে, যেখানে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা বা হাসপাতালের সম্পত্তি ভাঙচুর করা একটি অ-জামিনযোগ্য কঠোর অপরাধ।
তৃতীয়ত, সুষ্ঠু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগ বা আইসিইউতে রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন বা দুজনের বেশি স্বজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে হাসপাতালের ভেতরে কোনো দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগই থাকে না। তা ছাড়া চিকিৎসকদের বসার জায়গা ও সংবেদনশীল জোনগুলো বায়োমেট্রিক লক বা অ্যাকসেস কন্ট্রোল দিয়ে সুরক্ষিত থাকে, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত।
এই সাময়িক পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কারে হাত দিতে হবে। এ জন্য দেশে একটি কার্যকর ও কঠোর ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং তার দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক অ-জামিনযোগ্য শাস্তি দিতে হবে।
এ ছাড়া দেশের হাসপাতালগুলোর প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবার জায়গা আলাদা করতে হবে। জরুরি বিভাগ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বহিরাগত এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রোগীর স্বজনদের বসার জন্য আলাদা আধুনিক লাউঞ্জের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি, আমাদের চিকিৎসকদের পাঠ্যক্রমে এবং পেশাগত জীবনে ‘ক্রাইসিস কমিউনিকেশন’ বা সংকটের মুহূর্তে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তা স্বজনদের আগে থেকেই বুঝিয়ে বলার (কাউন্সিলিং) ক্ষেত্রে এ দক্ষতা কাজে লাগবে। রোগীদের কল্যাণে কাজ করা সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্সগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও দ্রুত কার্যকর ‘মেডিক্যাল ওম্বুডসম্যান’ বা তদন্ত বোর্ড গঠনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে না তুলে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে বিচার পাওয়ার আস্থা পায়।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা কোনো একক গোষ্ঠী বা পেশার দাবি নয়, এটি দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা সচল রাখার পূর্বশর্ত। একজন চিকিৎসক যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তবে তার পক্ষে রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া অসম্ভব। আনসার, অস্ত্র বা পাগলাঘণ্টা সাময়িক প্রতিরোধ হলেও চূড়ান্ত কোনো সমাধান নয়।
চিকিৎসকদের প্রকৃত নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হবে, যখন হাসপাতালের অবকাঠামোগত সংকট দূর হবে, কঠোর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সর্বোপরি চিকিৎসক ও রোগীর মাঝখানে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসের সেতুটি আবার নতুন করে গড়ে উঠবে। সরকার ও নীতিপ্রণেতারা যত দ্রুত এই মূল সংকটের দিকে নজর দেবেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য ততই মঙ্গল।
পারল না ফর্টিস, আরামবাগকে উড়িয়ে এবারও রানার্সআপ আবাহনীবাংলাদেশ ফুটবল লিগে রানার্সআপ হয়েছে আবাহনী
এক রাউন্ড হাতে রেখেই গত শুক্রবার ঘরোয়া ফুটবল লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছিল বসুন্ধরা কিংস। আজ লিগের শেষ রাউন্ডে সবার নজর ছিল রানার্সআপ লড়াইয়ের দিকে। রানার্সআপ হওয়ার সমীকরণে টিকে ছিল আবাহনী লিমিটেড ও ফর্টিস এফসি। রানার্সআপ হতে দুই দলের সামনেই প্রথম শর্ত ছিল জয়। তারপর হতো গোলের হিসাব।
তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও ভাগ্যনির্ধারণী দিনে সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে ফর্টিস এফসি। গাজীপুরের মাঠে পিডব্লিউডির কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ২-২ গোলে ড্র করেছে। অন্যদিকে মানিকগঞ্জের মাঠে আরামবাগকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে রানার্সআপ হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড।
দিনের আরেক ম্যাচ লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা বসুন্ধরা কিংস নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে হারিয়েছে আগেই অবনমন নিশ্চিত হওয়া ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবকে। ১৮ ম্যাচের লিগ শেষে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের চূড়ান্ত পয়েন্ট ৪১। রানার্সআপ আবাহনীর পয়েন্ট ৩৭, আর ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ফর্টিস।
এর আগে ১৭ রাউন্ড শেষে আবাহনী ও ফর্টিস দুই দলেরই পয়েন্ট ছিল সমান ৩৪। এমনকি গোল ব্যবধানও ছিল সমান + ১৮। অবশ্য আবাহনী ৩৩টি গোল করে ফর্টিসের (২৯ গোল) চেয়ে এগিয়ে ছিল।
তবে শেষ রাউন্ডে ফর্টিস ড্র করায় আর আবাহনী জিতে যাওয়ায় গোলের হিসাব পর্যন্ত যেতে হয়নি।
সরাসরি পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই রানার্সআপ নিশ্চিত করেছে আবাহনী। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার রানার্সআপ হলো আকাশি-নীল শিবির, সর্বশেষ ৫ মৌসুমের হলো চতুর্থবার।
ফকিরেরপুল ইয়ংমেনসের সঙ্গে এবারের লিগ থেকে অবনমিত হয়েছে আরামবাগও। ১৮ ম্যাচ শেষে ফকিরেরপুলের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট, আরামবাগের ১৪।
দিনের আরেক ম্যাচে কুমিল্লায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫-০ গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে বিধ্বস্ত করে এবারের লিগ শেষ করেছে। পাঁচ গোলের চারটিই করেছেন সৌরভ দেওয়ান। গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোহামেডান এবার হয়েছে পঞ্চম।
মৌসুমীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার একটি টিকিটও বিক্রি হয়নিশুক্রবার দেশের ১৬টি হলে মুক্তি পায় ছবিটি
১৬টি হলের মধ্যে একমাত্র সিনেপ্লেক্স হিসেবে কুমিল্লার কে-স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। প্রথম দিন চলেছে তিনটি শো, আর আজ শনিবার দুটি শো রয়েছে। হল থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি সেখানে।
হলটির ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুক্রবার তিনটা শোর একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি। আজ সকাল সাড়ে ১০টায়ও একই। সন্ধ্যার একটা শো আছে, এটা নিয়েও কোনো আশা দেখছি না। এটা হতাশজনক।’
১৬ মে মুক্তির কথা ছিল হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার। চলছিল মুক্তির শেষ প্রস্তুতি। তবে ১৫ মে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা যাবে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন হাসান জাহাঙ্গীর। এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন নকিব সাইফুল ইসলাম।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক চলছিল। ছবিটি নিয়ে কদিন আগেই অভিযোগ করেছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি জানান, এটি কোনো সিনেমা নয়, নাটকের কথা বলেই যুক্তরাষ্ট্রে এটির শুটিং হয়েছিল।
মৌসুমীর পর ছবিটি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী জেবা জান্নাত। সিনেমার পোস্টারে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে জেবা জান্নাতকেও দেখা যায়। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো কিছুই জানেন না বলে জানান এ অভিনেত্রী। এমনকি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে কোনো সিনেমা কিংবা নাটকে তিনি অভিনয়ই করেননি বলেও জানান।
পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর না পেয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগ করেছেন জেবা জান্নাত। এর সঙ্গে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অ্যাক্টরস ইকুইটিতেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে অভিনেতা সিয়াম মৃধাও ফেসবুকে অভিযোগ করেন। জানান, একটি সিরিয়ালে কাজের নাম করেই সিনেমার অনেক অংশ তৈরি করা হয়েছে।
আইনি জটিলতায় দ্বিমুখী জট: প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দুই-ই আটকে
ছবি: এআই/প্রথম আলো
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কাটাতে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১ হাজার ১২২টি পদের সেই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েও কোনো সুখবর নেই। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই পরীক্ষার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন স্থগিত হয়ে গেছে।
একই সঙ্গে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াটিও আইনি জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ফলে সরাসরি নিয়োগ এবং পদোন্নতি—দুই পথেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি আটকে আছে। এতে দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে।
আদালতের স্থগিতাদেশ ও পিএসসির বক্তব্য—
পিএসসি সূত্র জানায়, ১ হাজার ১২২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ লাখ চাকরিপ্রার্থী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক এই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মে মাসে এই নিয়োগ পরীক্ষার ওপর আদালত থেকে একটি ছয় মাসের স্টে অর্ডার (স্থগিতাদেশ) এসেছে। ফলে আমরা ইচ্ছা করলেও এখন পরীক্ষাটি নিতে পারছি না। নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করার আগে আদালতের বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে হবে।’
পরীক্ষার খরচ ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘প্রায় সাত লাখ প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ঢাকা কেন্দ্রে নেওয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে পিএসসি সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। আমরা আশা করছি, আদালতের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হলে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করতে পারব।’
অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই
বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ও মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৪৫৭টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১৫৯টি প্রধান শিক্ষকের পদই শূন্য রয়েছে। এর অর্থ হলো, দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশের প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বিশাল এই শূন্য পদের বিপরীতে পিএসসির মাধ্যমে মাত্র ১ হাজার ১২২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। শূন্য পদের তুলনায় এই বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত অপ্রতুল হলেও এখন সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
৮০ শতাংশ পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে—
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার নিয়ম রয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। গত বছর এই বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে হলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সারা দেশে এমন হাজার হাজার যোগ্য সহকারী শিক্ষক আছেন। কিন্তু একটি চলমান মামলার কারণে মন্ত্রণালয় তাঁদের পদোন্নতি দিতে পারছে না। ফলে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়াটিতেও কোনো সুখবর নেই। এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কথা হয় গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত আদালতের একটি মামলার কারণে পদোন্নতির প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হবে। মামলার জট খুললেই আমরা বড় আকারে পদোন্নতি দিতে পারব। এই সংকট সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে। স্থায়ী পদ না থাকায় তাঁরা পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।
১ পদের বিপরীতে লড়ছেন ৬২৪ জন—
শিক্ষকসংকট কাটানোর লক্ষ্যে গত বছরের ৩১ আগস্ট ১ হাজার ১২২টি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। শুরুতে বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ১৬৯টি পদের কথা বলা হলেও বিধিমালা সংশোধনের পর পদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১২২টিতে।
আবেদনের প্রক্রিয়া গত বছরের অক্টোবরে শেষ হয়। এই সামান্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এই হিসাবে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে ৬২৪ জন প্রার্থীকে লড়াই করতে হবে। আবেদনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
পিএসসি জানিয়েছে, এই নিয়োগ পরীক্ষা হবে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাসের জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা পরবর্তী ধাপে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এই আইনি জট খোলা জরুরি। আদালতের নির্দেশনা ও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।





Post a Comment