বাংলাদেশের আজকের প্রধান খবর (৬ জুন ২০২৬)

 

  বাংলাদেশের আজকের প্রধান খবর (৬ জুন ২০২৬)


জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

নতুন বাজেট ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাম (Measles) প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ
বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে এবং শিশুদের মধ্যে হামজনিত মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে
ঈদের ছুটির পর ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। বিষয়টি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে গেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যা রপ্তানি খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালে খেলছে। কোচ দলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

আগ্রাবাদে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে এই ঝটিকা কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, যুবলীগের মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে— হামে শিশুমৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। মিছিলটি একপর্যায়ে আগ্রাবাদের বিদ্যুৎ ভবনের সামনে এসে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।

নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক মিছিলের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আগ্রাবাদের এই মিছিলের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমীনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, আগ্রাবাদ এলাকার মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মিছিলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল জামায়াত


বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: জামায়াতে ইসলামীর সৌজন্যে
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে বন্ধুরাষ্ট্র তুরস্কের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে তুরস্কের অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ক্রবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াত আমির তুরস্ককে বাংলাদেশের এক ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। আজকের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের চলমান সংকট নিরসনে এবং এর স্থায়ী সমাধানে তুরস্কের জোরালো সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।’

জামায়াত আমির আরও জানান, বৈঠকে কেবল কূটনৈতিক বিষয়ই নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সংকট দূরীকরণের মতো নানাবিধ বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ফলপ্রসূ কথা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের উন্নয়নে তুরস্কের সহযোগিতা চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের চামড়া, পাট ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার পর হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানায়। তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এই ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

সেন্টকম জানায়, ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে চারটি ড্রোন পাঠায়, যেগুলো আঞ্চলিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা। ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে তিন মাসের সংঘাত থামানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।

তেহরান যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত কয়েকশ কোটি ডলারে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলো সামনে আনছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরুদ্ধ রেখেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে, তবে তাদের হাতে এখনও প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে। শতকরা হিসেবে হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ। এটা অনেক, কিন্তু প্রথম হামলার সময় যা ছিল, তা নয়।’

ইরানের নেতৃত্ব কেন দ্রুত সমঝোতায় আসছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা শক্ত ও গর্বিত জাতি; তবে পরিস্থিতির কারণে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সময় লাগছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়।

লেবাননে সমান্তরাল সংঘাত

এদিকে লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দুটি হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সম্প্রতি দখল করা বউফোর্ট দুর্গের কাছেও একটি হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে।

ইরান হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে না গেলে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় শুরু করাকে শর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান।

মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়। হিজবুল্লাহ জানায়, তারা তেহরানের সমর্থনে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ছিল না এবং আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ করবে না। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহ মিত্র নবিহ বেরি বলেছেন, ইসরায়েল একই সঙ্গে দখল করা এলাকা ছাড়লে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হবেন।

এই সপ্তাহে লেবানন ছাড়াও গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

Remaining Time 13:32

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে সান মারিনোকে হারিয়ে রূপকথার এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল।

স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যার জোড়া গোলের ওপর ভর করে মাঠ ছাড়ে থমাস ডুলির শিষ্যরা। সান মারিনোর হয়ে একমাত্র গোলটি শোধ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে ডাগআউটে অভিষেক হলো জার্মান কোচ থমাস ডুলির। তিনি শুরুর একাদশে সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখলেও ম্যাচজুড়ে দারুণ কৌশল দেখিয়েছেন।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ, তবে বক্সে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধায়। এর ঠিক দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ১৯তম মিনিটে ডান দিক থেকে মোরছালিনের চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে তপু বর্মণ হেডের সাহায্যে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন।

তবে ৩১তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দিলে বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডার বক্সে থাকা সত্ত্বেও বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। সেই সুযোগে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জাকোপেত্তি। বিরতির ঠিক আগে ৩৮তম মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে কেবল গোলকিপার থাকলেও তিনি পোস্টের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে মারলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

বিরতির পর জামাল ভূঁইয়া ও মোরছালিনকে তুলে নিয়ে কোচ ডুলি মাঠে নামান সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। এছাড়া ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে নামেন জায়ান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৮তম মিনিটে হামজার দারুণ পাস ধরে রফিকুল ক্রস বাড়ালেও গোলমুখের সামনে সোহেল রানা পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। এরপর ৫৩ মিনিটে সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও তা গোলপোস্টে থাকেনি। ম্যাচের ৬১ মিনিটে সান মারিনোর কাপিচ্ছিয়োনির এক বিপজ্জনক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল।

এরপর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলাম মাঠে নামেন ফাহিম ও রফিকুলের জায়গায়। মাঠে নামার খানিক পরই বদলি ডিফেন্ডার বিশ্বনাথের সামনে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে একা পাওয়ার দারুণ সুযোগ এলেও তিনি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের বিশেষ নিয়মে দুই দলের সম্মতিতে এদিন একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয় এবং ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের একটু সামনে থেকে হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক কেউ ক্লিয়ার করতে না পারলে বিশ্বনাথের সাইড ভলি থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। নিজের দ্বিতীয় গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশী দর্শকেরা মেতে ওঠেন ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধান ধরে রেখে এক স্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ ফুটবল দল।

Post a Comment

Previous Post Next Post